“আগেরবার তিনজন এসেছিলাম…” ভোট দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আরজি করের নির্যাতিতার মা!

সময় বয়ে গিয়েছে প্রায় দুই বছর। কিন্তু বিচার এখনও অধরা। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে যে নারকীয় ঘটনার সাক্ষী ছিল গোটা বিশ্ব, সেই ক্ষত আজও টাটকা নির্যাতিতার মায়ের বুকে। আজ, বুধবার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন পানিহাটি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ।
বুথ থেকে বেরিয়ে বিষণ্ণ স্মৃতি
ভোট দিয়ে বুথ থেকে বেরোনোর সময় রত্না দেবনাথের দু’চোখ ভিজে ওঠে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতীতের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন:
“আগেরবার (ভোট দিতে) তিনজন এসেছিলাম। আর কিছু বলার নেই। ৪ তারিখ মানুষ জবাব দেবে।”
উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন তিনি। আজ সেই মেয়ের শূন্যতা তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে এক বিচারহীন দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা।
কেন রাজনীতিতে এক সাধারণ মা?
সাক্ষাৎকারে রত্নাদেবী স্পষ্ট জানান, রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনাই তাঁদের ছিল না। তাঁর কথায়, “মেয়েটা অনেক পরিশ্রম করে ডাক্তার হয়েছিল। সেটাই ছিল আমাদের গর্ব। কিন্তু কর্মস্থলে ওকে নির্মমভাবে খুন হতে হলো। ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শিকার।” মেয়ের খুনের শিকড় কত গভীরে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা তুলে ধরতেই তিনি আজ বিধানসভার লড়াইয়ে।
মেয়ের বিচার ও নারী নিরাপত্তার ডাক
রত্না দেবনাথের দাবি, এই লড়াই শুধু তাঁর একার মেয়ের জন্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা বিশ্বের মেয়েদের নিরাপত্তার লড়াই। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আবেদন:
“আপনারা এগিয়ে আসুন। আমি জিতলে আসলে আপনারাই জিতবেন।”
“বিধানসভায় আপনাদের কথাই হবে আমার কণ্ঠস্বর।”
প্রেক্ষাপট: আরজি কর মামলা
২০২৪ সালের অগস্টের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার পর সিবিআই তদন্ত শুরু হলেও সঞ্জয় রায় ছাড়া আর বড় কোনো গ্রেফতারি বা বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। সেই ক্ষোভকেই ভোটের বাক্সে হাতিয়ার করতে চাইছেন রত্না দেবনাথ।