পানিহাটিতে রণক্ষেত্র! আরজি করের নির্যাতিতার মাকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, নজিরবিহীন উত্তেজনা

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে সৃষ্টি হলো নজিরবিহীন উত্তেজনা। আরজি কর হাসপাতালের সেই নৃশংস ঘটনার শিকার তরুণী চিকিৎসকের মা এবং বর্তমান বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথকে বুথ পরিদর্শনে গিয়ে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো। তাঁকে ঘিরে ধরে চলল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, যা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
শোকাতুর মাকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান
মেয়ের অকালমৃত্যুর বিচার এবং নারী নিরাপত্তার ডাক দিয়ে রাজনীতিতে পা রেখেছেন রত্না দেবনাথ। বুধবার সকালে পানিহাটির একটি বুথে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা, বিশেষ করে একদল মহিলা তাঁকে ঘিরে ধরেন। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রত্না দেবনাথকে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হয় তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের।
মাঠে নামল বিশাল বাহিনী
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই এলাকায় পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে রত্না দেবনাথকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি শিবিরের দাবি, পরিকল্পনা করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা একজন শোকাতুর মায়ের ওপর এই হামলা চালিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপির তোপ: গেরুয়া শিবিরের নেতাদের দাবি, “যিনি নিজের সন্তানের বিচার চাইতে লড়াই করছেন, তাঁকে এভাবে হেনস্থা করা বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী। তৃণমূল ভয় পেয়ে এই নোংরা রাজনীতি করছে।”
তৃণমূলের পাল্টা: শাসক শিবিরের দাবি, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ। তাঁদের অভিযোগ, রত্না দেবনাথ নিজেই উস্কানিমূলক কথা বলে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করছেন। তৃণমূলের কোনো কর্মী এর সাথে যুক্ত নয়।
প্রেক্ষাপট: আরজি কর ও পানিহাটি
আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই পানিহাটির এই লড়াই আর পাঁচটা সাধারণ লড়াইয়ের চেয়ে আলাদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্যাতিতার মা প্রার্থী হওয়ায় এই কেন্দ্রটি এখন গোটা দেশের নজরে। ভোটের দিনে এই অশান্তি নির্বাচন কমিশনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এডিটরস ভিউ: পানিহাটির মাটিতে আজ যা ঘটল, তা কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং এক গভীর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একজন প্রার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেওয়া এবং শোকাতুর মায়ের প্রতি এই আচরণ কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।