জাহাঙ্গীর খানকে হুঁশিয়ারি দেওয়াই কাল হলো? পুলিশ পর্যবেক্ষককে সরাতে এবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগেই আইনি লড়াইয়ের মুখে রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক আইপিএস অজয় পাল শর্মা। যাঁর ‘দাবাং’ ইমেজ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, সেই আইপিএস অফিসারের অপসারণ চেয়ে এবার সরাসরি মামলা দায়ের হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে।

কেন চর্চায় এই আইপিএস?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে গত কয়েকদিনে অজয় পাল শর্মার গতিবিধি দেখে অনেকেই তাঁকে পর্দার জনপ্রিয় চরিত্র ‘সিংহম’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। বুলেটে চেপে বা কড়া মেজাজে এলাকা পরিদর্শন করে তিনি একদিকে যেমন ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছেন, তেমনই রাজনৈতিক শিবিরের রোষানলে পড়েছেন।

জাহাঙ্গীর খানকে ‘হুঁশিয়ারি’ ও আইনি জটিলতা
মামলার নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা। অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির সামনে গিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই পুলিশ পর্যবেক্ষক। শাসকদলের দাবি, অজয় পাল শর্মা তাঁর এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করছেন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই বুধবার ভোটের ঠিক আগে, মঙ্গলবার রাতে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের অভিযোগ: পর্যবেক্ষকের কাজ নজরদারি চালানো, কাউকে সরাসরি হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানো নয়। তাঁর সক্রিয়তা বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে।

বিরোধীদের দাবি: অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারদের সক্রিয়তার কারণেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকায় মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি
ভোট চলাকালীন শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী রায় দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে দ্বিতীয় দফার বাকি সময়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যদি আদালত অজয় পাল শর্মাকে সরানোর নির্দেশ দেয়, তবে তা কমিশনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। অন্যদিকে, আদালত হস্তক্ষেপ না করলে ‘সিংহম’ অবতারেই দেখা যাবে এই আইপিএস-কে।