নির্বাচন না কি পুলিশের ভয়? ভবানীপুরকে ‘টার্গেট’ করার অভিযোগ কল্যাণের, কমিশনের জবাবে তোলপাড় আদালত!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনের কড়াকড়ি নিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ শাসকদল। সোমবার রাতেই রাজ্যজুড়ে ৮০০-র বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে— এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার হাইকোর্টে নজিরবিহীন সওয়াল-জবাব চলল।

“সিংঘম না কি এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট?”

এদিন জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিশানা করেন। আদালতে তাঁর অভিযোগ:

  • ফিরহাদের বাড়িতে সিআরপিএফ: সোমবার রাত ৯টায় বিনা প্রোটোকলে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

  • সিংঘম অবতার: পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা নিজেকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বলে দাবি করছেন, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে দাবি কল্যাণের।

  • কালীঘাটে ওসির দুর্ব্যবহার: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কালীঘাট থানার ওসি তাঁর সঙ্গে চূড়ান্ত অসভ্যতা করেছেন। তিনি বলেন, “৪ বারের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও আমি সম্মানের বদলে হেনস্থার শিকার হয়েছি।”

ভবানীপুরকে ‘টার্গেট’ করার অভিযোগ

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কমিশন এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকরা মূলত ভবানীপুর বিধানসভাকে টার্গেট করে কাজ করছেন। বিজেপি প্রার্থী টাকা সমেত ধরা পড়লেও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্য ক্যাডারের অফিসারদের সরিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যের অফিসারদের নিয়ে এসে এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

কমিশন ও রাজ্যের পাল্টা যুক্তি

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে স্পষ্ট জানান:

  • অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

  • ৮০০ জনকে নিয়ে যে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

  • আইন মেনে পদক্ষেপ নিতে আদালত কমিশনকে বাধা দিতে পারে না।

অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী সওয়াল করেন যে, আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবদের বদলে দেওয়া হয়েছে। প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা আগাম গ্রেফতারির ক্ষেত্রে কমিশনকে ভবিষ্যতে সংযত থাকতে হবে।

স্থগিত রায়দান

উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন রায়দান স্থগিত রেখেছে। এখন দেখার, আদালতের রায়ে নির্বাচনের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কমিশনকে কোনও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয় কি না।