‘डिजिटल अरेस्ट’ রুখতে মোদী সরকারের মাস্টারপ্ল্যান! ১০ কোটির ওপর ঠগি হলেই নামবে সিবিআই, বড় রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে

ডিজিটাল অ্যারেস্ট এবং অনলাইন প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া একটি বিস্তারিত রিপোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে, ১০ কোটি টাকার বেশি জালিয়াতির মামলাগুলির তদন্তভার সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সিবিআই (CBI)-এর হাতে। সোমবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই রিপোর্ট শীর্ষ আদালতে পেশ করেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) এই রিপোর্টে টেলিকম সংস্থা, ব্যাংক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করার একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে।

সিম কার্ডে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন

রিপোর্টের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সিস্টেম (BIVS)। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সিম কার্ড রিয়েল টাইমে ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত নিয়ম জারি করবে টেলিকম বিভাগ।

  • ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে ক্রস-অপারেটর সিম মনিটরিং সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • একজন ব্যক্তির একটি ‘প্রাইমারি নম্বর’ থাকবে, যার সঙ্গে অন্যান্য সিম লিঙ্ক করা থাকবে। এতে ভুয়া সিম তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

টেলিকম ও হোয়াটসঅ্যাপের দায়বদ্ধতা

প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলি নিয়েও কঠোর অবস্থানে সরকার। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে:

  • ডিলিট করা অ্যাকাউন্টের তথ্য ১৮০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে।

  • সন্দেহজনক কল বা মেসেজ এলে ব্যবহারকারীকে অ্যালার্ট পাঠানো হবে।

  • ২০২৬ সালের শুরু থেকে মাত্র ১২ সপ্তাহে ডিজিটাল অ্যারেস্টের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯,৪০০টি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

ক্ষতিপূরণ ও সিবিআই তদন্ত

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আরবিআই (RBI) একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করবে। ইতিমধ্য়েই দিল্লি এবং গুজরাটের তিনটি বড় জালিয়াতির মামলার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। দিল্লির একটি ঘটনায় প্রায় ২২.৯২ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে।