কলকাতায় এবার ‘খাকি’ দাপট! বুথ দখল রুখতে মরিয়া সিআরপিএফ, জওয়ানদের কড়া বার্তায় কাঁপছে গুন্ডাবাহিনী

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে খাস কলকাতায় এখন সাজ সাজ রব। তবে এই আয়োজন উৎসবের নয়, বরং ভোটের ময়দান শান্ত রাখার। সোমবার সকাল থেকেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়া হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অলিগলিতে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘রুট মার্চ’। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে পাড়ার সরু গলি—সর্বত্রই এখন জলপাই পোশাকের জওয়ানদের কড়া নজরদারি।

জওয়ানদের হুঙ্কার: “গুন্ডারা এবার পালাবে!”

ভবানীপুরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফ (CRPF)-এর উপ-কমান্ড্যান্ট নীলকমল ভারদ্বাজ সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, “এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুট আর বন্দুকের শব্দ শুনেই হয় অপরাধীরা গা ঢাকা দিয়েছে, নয়তো এলাকা ছেড়েছে। ভোটাররা নির্ভয়ে আসুন, বাকিটা আমরা দেখে নেব।”

[Image: CRPF personnel marching through the lanes of Bhabanipur]

কেন নজর কাড়ছে ভবানীপুর?

ভবানীপুর মানেই হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক লড়াই। ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ আগামীকাল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। হাইপার-সেনসিটিভ বা অতি-সংবেদনশীল বুথগুলোতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সিআরপিএফ জওয়ানরা এখন থেকে পাহারায় বসেছে। পোলিং স্টেশনের আশেপাশের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সাহস জোগাচ্ছেন কমান্ড্যান্টরা।

জনসাধারণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভবানীপুরের ব্যস্ত বাজার এলাকা এবং আবাসিক পাড়াগুলোতে জওয়ানদের মার্চ দেখে কেউ পাচ্ছেন স্বস্তি, কেউবা কৌতূহলী। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “এত সুরক্ষা দেখে মনে হচ্ছে এবার শান্তিতে ভোট দিতে পারব।” তবে বিরোধীদের দাবি, কলকাতার বুকে এত কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।

এক নজরে প্রস্ততি:

  • কড়া নজরদারি: সিসিটিভি এবং ড্রোনের মাধ্যমেও বুথগুলোর ওপর নজর রাখা হবে।

  • সক্রিয় সিআরপিএফ: কোনো জমায়েত বা সন্দেহভাজন দেখলেই কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ।

  • লক্ষ্য: ১০০ শতাংশ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করা।

আগামীকাল কি ভবানীপুরের ভোটাররা বিনা বাধায় বুথে পৌঁছাতে পারবেন? কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বিশাল উপস্থিতি কি পারবে অশান্তি রুখতে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা কলকাতা।