আকাশপথে মহাসংকট: তেলের দামে নাজেহাল এয়ার ইন্ডিয়া-ইন্ডিগো, বিমান পরিষেবা কি থমকে যাবে?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে ধুঁকছে ভারতের বিমান পরিষেবা। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, দেশের তিন বৃহৎ বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া (Air India), ইন্ডিগো (IndiGo) এবং স্পাইসজেট (SpiceJet) কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রককে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করলে দেশজুড়ে থমকে যেতে পারে বিমান চলাচল।
সংকটের মূলে কী? ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA)-এর পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে:
-
জ্বালানির চড়া দাম: বিমানের জ্বালানি বা ATF-এর দাম গত কয়েক মাসে রেকর্ড হারে বেড়েছে। বর্তমানে বিমান চালানোর মোট খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই চলে যাচ্ছে তেলের পিছনে।
-
বিপজ্জনক পরিস্থিতি: সংস্থাগুলোর দাবি, তারা এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যেখানে অপারেশন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো সংস্থা এমনকি পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বা ‘গ্রাউন্ডিং’-এর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
-
বৈষম্যমূলক কর: চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, দিল্লি বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে ভ্যাট (VAT) ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত, যা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন বাড়ছে দুশ্চিন্তা? ১ মে থেকে জ্বালানির দাম আরও একবার সংশোধন হতে চলেছে। বিমান সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, যদি দাম কমানো না হয় বা সরকারকে আর্থিক প্যাকেজ না দেওয়া হয়, তবে গণহারে ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হবে তারা। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের ওপর; শুধু টিকিটের দাম বাড়াই নয়, অনেক রুট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রের কাছে আর্জি: ১. এটিএফ-এর (ATF) ওপর থেকে ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া। ২. ভ্যাট বা করের হার কমানোর জন্য রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেওয়া। ৩. বিমান সংস্থাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান বা লোন গ্যারান্টি দেওয়া।
বর্তমানে বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এখন দেখার, এই গভীর সংকটে কেন্দ্র বিমান সংস্থাগুলোর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নাকি সাধারণ মানুষের পকেটে আরও বড় টান পড়ে।