নবাবি আমলের মসজিদ-মাজারে চরম অবহেলা! বেতন বঞ্চনা নিয়ে মোদী সরকারকে কড়া প্রশ্ন বিচারপতি অমৃতা সিনহার!

মুর্শিদাবাদের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা নবাবি আমলের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ এবং কবরস্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের বেহাল দশা দেখে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিশেষ করে সেখানকার কর্মীদের নামমাত্র মাসিক বেতন দেখে রীতিমতো বিস্মিত বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
🏛️ কেন আদালতের এই কড়া অবস্থান?
ঐতিহ্যবাহী মুর্শিদাবাদে নবাবদের আমলে তৈরি অসংখ্য ছোট-বড় মসজিদ ও কবরস্থান রয়েছে, যা বর্তমানে কেন্দ্রের ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI)-এর অধীনে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই অমূল্য সম্পদগুলো আগলে রাখার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে অমানবিক কম বেতনে কাজ করছেন। শুনানির সময় কর্মীদের বর্তমান বেতন কাঠামো দেখে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এই টাকায় বর্তমান যুগে কীভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব?”
🔍 মামলার মূল বিষয়গুলো:
-
ঐতিহ্যের অবহেলা: শতাব্দী প্রাচীন নবাবি স্থাপত্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে।
-
বেতন বৈষম্য: অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। এমনকি ন্যূনতম মজুরি আইনের শর্তও মানা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন মামলাকারীরা।
-
কেন্দ্রের দায়বদ্ধতা: যেহেতু এই সাইটগুলি কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত, তাই দায় এড়াতে পারে না দিল্লি— এই পর্যবেক্ষণ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📜 মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্য ও ASI
মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি থেকে শুরু করে কাটরা মসজিদ বা খুশবাগ— এই প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার ইতিহাস। এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে মুর্শিদাবাদের পর্যটন অর্থনীতি। কিন্তু হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রক্ষাণাবেক্ষণকারীদের যথাযথ সম্মান ও পারিশ্রমিক না দিলে এই ঐতিহ্য রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
⚖️ পরবর্তী পদক্ষেপ
আগামী শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাতে হবে, এই কর্মীদের বেতন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই সাইটগুলোর জন্য কত টাকা বরাদ্দ করছে। আদালতের এই কড়া মনোভাবের ফলে মুর্শিদাবাদের নবাবি ঐতিহ্য রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন ইতিহাসপ্রেমীরা।