তৃণমূল প্রার্থীকে ‘হুমকি’র অভিযোগ! যোগীরাজ্যের দুঁদে আইপিএস-এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা; কী বললেন বিচারপতি?

বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার মহারণ। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সরগরম বাংলার রাজনীতি। কাঠগড়ায় খোদ নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক তথা উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও তৃণমূল প্রার্থীকে হুমকির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল মঙ্গলবার।
কী ঘটেছিল? ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে
বিতর্কের সূত্রপাত গত সোমবার থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়ির এলাকায় গিয়ে মেজাজ হারিয়েছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “জাহাঙ্গিরকে শুধরে যেতে বলুন, নাহলে পরে কাঁদতে হবে!” তাঁর এই হুঁশিয়ারির পরই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ মামলাকারী
এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে মামলার আবেদন জানানো হয়। মামলাকারীর আইনজীবীর অভিযোগ:
-
যোগীরাজ্যের এই আইপিএস আধিকারিক ভোটার এবং প্রার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন।
-
নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত হয়েও তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না।
-
অবিলম্বে তাঁকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বা আটকানোর আবেদন জানানো হয়।
বিচারপতির কড়া অবস্থান
মামলা দায়ের হলেও এখনই কোনও স্বস্তি মেলেনি আবেদনকারীর। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সাফ জানিয়ে দেন, ২৯ এপ্রিল (ভোটের দিন) পর্যন্ত আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি মন্তব্য করেন, “যাঁরা নির্বাচনের দায়িত্বে আছেন, তাঁদের কারও কাজে এখনই বাধা দেব না।” মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় এদিন শুনানিও স্থগিত থাকে।
ভোটের আগে উত্তপ্ত ফলতা
উত্তরপ্রদেশের এই দুঁদে আইপিএস অফিসারের উপস্থিতি এবং তাঁর কড়া মেজাজ একদিকে বিরোধীদের সাহস জোগালেও, শাসক শিবিরের অভিযোগ— ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। বুধবারের ভোটের ময়দানে এই ‘অবজারভার ফ্যাক্টর’ কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।