“আমরা প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু ডাক পাইনি!”-তৃণমূলের সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ছে সপা-র?

২০২১-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থনে বাংলার অলিতে-গলিতে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রতিনিধি তথা অমিতাভ-জায়া জয়া বচ্চনকে। কিন্তু ২০২৬-এর বঙ্গযুদ্ধে ছবিটা একেবারে অন্যরকম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অখিলেশ যাদবের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকলেও, এবার ভোটপ্রচারে সমাজবাদী পার্টির কোনো নেতা বা সাংসদকে বাংলায় দেখা গেল না। আর এই রহস্যময় অনুপস্থিতি নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
সমর্থন থাকলেও ডাক নেই!
অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে তেজস্বী যাদব—INDIA জোটের শরিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বাংলায় এসে প্রচার করেছেন। কিন্তু খোদ অখিলেশ যাদব তৃণমূলকে সমর্থনের কথা বললেও তাঁর দলের কাউকে কেন প্রচারে দেখা গেল না? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে সমাজবাদী পার্টির সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দের মন্তব্যে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন:
“বাংলায় ভোট প্রচারে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো ডাক দেওয়া হয়নি।”
উপেক্ষিত উত্তরপ্রদেশের ভোটব্যাঙ্ক?
কিরণময় নন্দের মতে, বাংলায় বিহারী ভোটারদের মন জয়ে যেমন তেজস্বী যাদবকে ব্যবহার করেছে তৃণমূল, তেমনই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের বড় অংশকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে সমাজবাদী পার্টি। কিন্তু সেই সুযোগ এবার ব্যবহার করেনি ঘাসফুল শিবির। জয়া বচ্চন বা অখিলেশ যাদবের মতো তারকা প্রচারকদের কেন ব্রাত্য রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেও।
একুশ বনাম ছাব্বিশের ছবি
২০২১ সালে জয়া বচ্চন যখন কলকাতায় প্রচার করতে এসেছিলেন, তখন তিনি নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁর একাধিক রোড শো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানো রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে মাইলেজ দিয়েছিল। কিন্তু এবার তৃণমূল কি আত্মবিশ্বাস থেকেই অন্য রাজ্যের শরিকদের ডাকেনি, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেজস্বী বা কেজরিওয়ালদের গুরুত্ব দিয়ে অখিলেশদের এড়িয়ে যাওয়াটা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।