“কমিশনের ‘হিট লিস্টে’ সামিম-জাহাঙ্গির-শাহজাহান!”-ভোটের আগে ২৩০০ প্রভাবশালীকে টার্গেট?

দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের আগে আর কোনো আপস নয়! ১৪২টি আসনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি ‘টার্গেট লিস্ট’ নিয়ে ময়দানে নামল নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার হিংসা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের ডিজি-কে (DG) পাঠানো চিঠিতে একগুচ্ছ প্রভাবশালীর নাম উল্লেখ করে তাঁদের ওপর কড়া নজরদারি ও প্রয়োজনে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের নজরে কোন কোন হেভিওয়েট?

সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কয়েকজন দাপুটে নেতার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ‘অ্যানেক্সচার’ তালিকা তৈরি করেছে কমিশন। এই তালিকায় নাম রয়েছে:

  • জাহাঙ্গির খান (ফলতা): তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

  • সামিম আহমেদ (মগরাহাট পশ্চিম): তৃণমূলের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর ওপর থাকবে বিশেষ নজর।

  • সন্দেশখালির বাহিনী: তালিকায় রয়েছেন শেখ শাহজাহান, শিবপ্রসাদ হাজরা, বারিক বিশ্বাস ও সাহানুর মণ্ডলের মতো নেতারা।

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা এই ব্যক্তিদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর পুলিশকে নজর রাখতে হবে।

রেকর্ড গ্রেফতারি ও পুলিশি তৎপরতা

ভোটের আগে ঘরছাড়াদের ফেরাতে এবং দুষ্কৃতীদের দমন করতে ইতিমধ্যেই ধরপাকড় শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে:

  • প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় সতর্কতামূলক গ্রেফতারির সংখ্যা অনেক বেশি।

  • এখনও পর্যন্ত ২৩০০ জনেরও বেশি দুষ্কৃতীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮০৯ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

  • থানাগুলোকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘অ্যানেক্সচার-এ’ ও ‘বি’ ফর্মুলা

কমিশন দুটি আলাদা তালিকা পাঠিয়েছে—যেখানে সম্ভাব্য গোলমালকারীদের নাম, এলাকা এবং যোগাযোগের যাবতীয় তথ্য দেওয়া রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে পুলিশকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা এফআইআর দায়ের করতেও পিছপা না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভাটপাড়া বা কুমারগঞ্জের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কমিশন এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। এখন দেখার, কমিশনের এই ‘টার্গেট লিস্ট’ ভোটের দিন অশান্তির আগুনে জল ঢালতে কতটা সফল হয়।