১০ দিনে ২ মৃত্যু! খড়্গপুর আইআইটিতে ফের বারাসতের মেধাবী ছাত্রের দেহ উদ্ধার, ১৬ মাসে ৯ পড়ুয়ার মৃত্যুতে তীব্র আতঙ্ক

ভারতের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম খড়্গপুর আইআইটি-তে মৃত্যুর ছায়া যেন কাটছেই না। মঙ্গলবার সকালে হস্টেলের ঘর থেকে সোহম হালদার (২২) নামে এক মেধাবী ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নিয়ে গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দুই পড়ুয়ার মৃত্যু হলো এই ক্যাম্পাসে।
ঘটনার বিবরণ:
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা সোহম ছিলেন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র। তিনি আইআইটি-র মদনমোহন মালব্য হলে থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ হস্টেলের রুম থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সোহমের আকস্মিক এই পরিণতিতে গোটা বারাসতে শোকের মায়া নেমে এসেছে।
আতঙ্কের পরিসংখ্যান:
গত ১৮ এপ্রিল গুজরাটের আমেদাবাদের বাসিন্দা জয়বীর সিং দোডিয়া নামে এক ছাত্র ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোহমের এই মৃত্যু। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৬ মাসে খড়্গপুর আইআইটিতে মোট ৯ জন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭ জন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ ও ব্যর্থতা:
পড়ুয়াদের ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ কমাতে আইআইটি কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘সেতু অ্যাপ’, ‘মাদার ক্যাম্পাস’ এবং নিয়মিত কাউন্সিলিং-এর ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু একের পর এক মেধাবী ছাত্রের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ভেতরে ভেতরে কোনো গভীর সমস্যা এখনও শিকড় গেড়ে আছে।
কেন দেশের সেরা মেধারা মাঝপথে এভাবে থমকে যাচ্ছে? পড়াশোনার চাপ না কি অন্য কোনো কারণ— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। তবে ঘনঘন এই মৃত্যু ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।