ভোটের ঠিক আগে ফলতায় ‘সিংহম’ এন্ট্রি! তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে দুঁদে আইপিএস অজয় পাল শর্মার হানা, তোলপাড় রাজ্য

দ্বিতীয় দফার মহারণের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে রণক্ষেত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। দীর্ঘদিনের ভূরি ভূরি অভিযোগ আর নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশের পর এবার সরাসরি অ্যাকশনে পুলিশ। খোদ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে চলল হাই-ভোল্টেজ তল্লাশি অভিযান। আর এই ঝটিকা অভিযানের নেতৃত্বে কে? তিনি আর কেউ নন, উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’ তথা দুঁদে আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা।
অভিযোগের পাহাড় বনাম কমিশনের কড়াকড়ি
গত কয়েক দিন ধরেই ফলতা বিধানসভা এলাকায় উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। ভোটারদের হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, এমনকি ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের টেবিলে। অভিযোগের তির ছিল সরাসরি তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের দিকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই কমিশন সবুজ সংকেত দেয় ‘সারপ্রাইজ তল্লাশির’।
কে এই অজয় পাল শর্মা?
যাঁর নামে উত্তরপ্রদেশের অপরাধীরা থরথর করে কাঁপে, সেই এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মাকে এবার বাংলার ময়দানে নামিয়েছে কমিশন। তাঁকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোতায়েন করার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। আজ জাহাঙ্গির খানের ডেরায় তাঁর এই ঝটিকা হানা ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নিরাপত্তার চাদরে ১৪২ আসন
২৯শে এপ্রিল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে মেগা ভোট। তার আগেই এলাকা শান্ত রাখতে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজ্যকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারির পাশাপাশি অজয় পাল শর্মার মতো দুঁদে আধিকারিকদের ময়দানে নামিয়ে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিল—ভোটের ময়দানে কোনও পেশিশক্তি বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না।
কী মিলল তল্লাশিতে?
এখন বড় প্রশ্ন হলো, জাহাঙ্গির খানের বাড়ি থেকে কি কোনও আপত্তিকর নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে? নাকি স্রেফ কড়া বার্তা দিতেই এই ‘সিংহম’ হানা? ফলতার এই টানটান উত্তজনা ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, তার উত্তর মিলবে আগামীকাল অর্থাৎ ২৯শে এপ্রিল।