পুলিশ হয়েও ফেসবুকে উস্কানি! ‘সাম্প্রদায়িক’ পোস্ট করায় লালবাজারের বড় পদক্ষেপ, কপাল পুড়ল কনস্টেবলের

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে বিপাকে পড়লেন কলকাতা পুলিশের এক কর্মী। সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং উস্কানিমূলক ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগে প্রথম ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল রামকৃষ্ণ কয়ালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করল লালবাজার। নির্বাচনের আবহে পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে বাহিনীকে স্পষ্ট বার্তা দিল প্রশাসন।
কী ছিল সেই বিতর্কিত পোস্টে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণ কয়াল কলকাতা পুলিশের ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপে (DMG) কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। অভিযোগ, সেই ভিডিওতে তিনি সরাসরি একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ বাহিনীতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ তোলেন। এমনকি, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাংশ অনৈতিক ধর্মীয় বিভাজন করছেন বলেও রাজনৈতিক মন্তব্য করেন তিনি। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশ মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
লালবাজারের কড়া পদক্ষেপ ও শাস্তি
কলকাতা পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কনস্টেবলের কর্মকাণ্ড জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং সরকারি সার্ভিস রুলের পরিপন্থী। ২৬ এপ্রিল দুপুর থেকেই তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
বিভাগীয় তদন্ত: রামকৃষ্ণের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
-
ভাতা ও সরঞ্জাম: সাসপেন্ড থাকাকালীন তিনি বেসিক বেতনের অর্ধেক পাবেন এবং তাঁকে সমস্ত সরকারি সরঞ্জাম ও কিট অবিলম্বে জমা দিতে বলা হয়েছে।
গোটা বাহিনীকে সতর্কবার্তা
ভোটের আবহে এই ঘটনাকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না লালবাজার। কলকাতা পুলিশের তরফে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে: ১. কোনো পুলিশকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক পোস্ট, শেয়ার বা সমর্থন করতে পারবেন না। ২. নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ৩. ডিউটি চলাকালীন বা ব্যক্তিগত জীবনেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
নির্বাচনের ঠিক আগে এক পুলিশকর্মীর এমন আচরণ এবং তার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্দরেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।