ভারতের মাস্টারস্ট্রোক! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই, এবার ১০০% পণ্যে মিলবে শূন্য শুল্ক সুবিধা!

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ময়দানে বড়সড় সাফল্য ভারতের। রাজধানী দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আজ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করতে চলেছে ভারত। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কেবল আমদানি-রপ্তানিই বাড়বে না, বরং ভারতীয় পেশাদার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরজা আরও প্রশস্ত হবে।

ভারতের জন্য কেন এটি বড় জয়?

মার্চ ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি সফল হয়েছে। এই চুক্তির ফলে চীনকে বাদ দিয়ে ‘আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব’ (RCEP)-এর প্রায় সব সদস্য দেশের সঙ্গেই ভারতের বাণিজ্যিক গাঁটছড়া সম্পন্ন হলো।

চুক্তির মূল আকর্ষণসমূহ:

  • শূন্য শুল্ক সুবিধা: নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি হওয়া ১০০% ভারতীয় পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক বা কর দিতে হবে না। এতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্য অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

  • সস্তা কাঁচামাল: ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ (Log), কোকিং কোল এবং ধাতব বর্জ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দেশীয় উৎপাদন খরচ কমবে।

  • পেশাদারদের পোয়া বারো: আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্মাণের মতো ১১৮টি ক্ষেত্রে ভারতীয়দের জন্য বিশেষ সুযোগ থাকছে। এমনকি আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, যোগ প্রশিক্ষক এবং রাঁধুনিদের জন্যও নিউজিল্যান্ডে কাজের বড় বাজার তৈরি হলো।

ভিসা ও কর্মসংস্থান: ৫০০০ ভারতীয়র সুযোগ

এই চুক্তির একটি বড় চমক হলো ‘অস্থায়ী চাকরির প্রবেশ ভিসা’। এর মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডে যেকোনো সময়ে অন্তত ৫,০০০ ভারতীয় পেশাদার কাজ করতে পারবেন, যার মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর। এছাড়াও থাকছে ১,০০০টি ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা।

শিক্ষার্থীদের জন্য বড় খবর হলো, উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর কিউইদের দেশে ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত কাজের অনুমতি (Post-study work rights) পাবেন ভারতীয় পড়ুয়ারা।

দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষা

চুক্তিটি বড় আকারের হলেও ভারত সরকার দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডেইরি পণ্য (দুধ, চিজ, দই) এবং সংবেদনশীল কৃষি পণ্য যেমন— পেঁয়াজ, চিনি, মশলা, ভোজ্য তেল ও রাবারকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নিউজিল্যান্ডের এই পণ্যগুলো ভারতীয় বাজারে অবাধে প্রবেশ করে স্থানীয় চাষিদের বিপদে ফেলতে পারবে না।

কৃষি ও প্রযুক্তিগত কোলাবরেশন

কেবল বাণিজ্য নয়, কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদানেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপেল, কিউই এবং মধুর গুণমান বৃদ্ধিতে দুই দেশ মিলে গড়ে তুলবে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’।

সম্পাদকের মন্তব্য: এই চুক্তি ভারতের বিশ্ববাণিজ্যের কৌশলী জয়। এতে একদিকে যেমন রপ্তানি আয় বাড়বে, অন্যদিকে দক্ষ কর্মশক্তির বিদেশ যাত্রার পথ সুগম হবে।

Samrat Das
  • Samrat Das