হুগলিতে পা রেখেই তারকেশ্বরে ‘যোগী’ গর্জন! বাবা ভোলানাথের আশীর্বাদ নিয়ে বাংলায় বড় ধামাকা

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাংলার মাটিতে ‘স্টার ক্যাম্পেনার’ যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার হুগলিতে পা রেখেই সরাসরি শৈবতীর্থ তারকেশ্বর মন্দিরে পৌঁছে গেলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। মাথায় তিলক, অঙ্গে গেরুয়া বসন— শিবভক্ত যোগীকে একঝলক দেখতে ভিড় জমালেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁর এই সফরকে বিজেপির পক্ষ থেকে ‘আধ্যাত্মিক সূচনা’ বলা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুগলির ভোট সমীকরণে মেরুকরণের হাওয়া তুলতে এটিই যোগীর মোক্ষম চাল।
বাবা তারকনাথের আশীর্বাদ ও হুঙ্কার: তারকেশ্বর মন্দিরে প্রথা মেনে পুজো ও জলাভিষেক সারেন যোগী। এরপর মন্দির চত্বর থেকেই তিনি বলেন, “ভারত আজ উন্নয়ন ও ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছে। ধর্মীয় স্থানে আসা ভক্তির পাশাপাশি আমাদের সাংস্কৃতিক লড়াইয়েরও অংশ।” পরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা ও রোড-শোতে অংশ নিয়ে তিনি উত্তরপ্রদেশের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন।
তৃণমূলের কটাক্ষ বনাম বিজেপির উল্লাস: যোগী আদিত্যনাথের এই সফরকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনৈতিক ময়দান এখন তপ্ত। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ‘বুলডোজার বাবা’র উপস্থিতিতে কর্মীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি ব্যালট বক্সে পড়বে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সফরকে কটাক্ষ করে জানিয়েছে, “উন্নয়ন নিয়ে বলার কিছু নেই বলেই বিজেপি ধর্মীয় আবেগকে ঢাল করছে। কর্মসংস্থান বা শিক্ষা নিয়ে যোগীজি কেন চুপ?”
উৎসবমুখর তারকেশ্বর: নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও যোগীকে দেখতে ভক্তদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। বহু সাধারণ মানুষ শিবমন্দিরে তাঁর উপস্থিতি দেখে মোবাইলে ছবি তোলার হিড়িক লাগিয়ে দেন। রাজনৈতিক প্রচারের মাঝে তারকেশ্বর এলাকা যেন কিছুক্ষণের জন্য অকাল উৎসবে মেতে ওঠে।
হুগলির মাটিতে যোগীর এই ‘গেরুয়া ঝড়’ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিজেপিকে কতটা মাইলেজ দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।