“আমার গাড়ি নেই বলে কি ঘরে বসে থাকব?” বাইক মামলায় কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়ে বড় রায় হাইকোর্টের!

ভোটের আগে রাস্তায় বাইক চলাচল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় আবারও বাধ সাধল কলকাতা হাইকোর্ট। সিঙ্গল বেঞ্চের পর এবার ডিভিশন বেঞ্চেও জোর ধাক্কা খেল কমিশন। সোমবার বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় এভাবে হস্তক্ষেপ করা যায় না।

বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ: শুনানি চলাকালীন বিচারপতি শম্পা সরকার কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “নাগরিকদের অধিকার এভাবে কেড়ে নিতে পারে না কমিশন। যদি আমার চারচাকা না থাকে আর শুধু বাইক থাকে, তাহলে কি আমি বাড়িতে বসে থাকব?” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাইক ব্যবহারের ওপর কোনও অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা আদালত বরদাস্ত করবে না।

সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল: গত শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ কমিশনের নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে যে নির্দেশ দিয়েছিল, ডিভিশন বেঞ্চ মূলত সেটিই অপরিবর্তিত রেখেছে:

  • ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে: শুধুমাত্র ভোট শুরুর ১২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইকে সওয়ারি (পিলিয়ন রাইডার) নিয়ে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

  • জরুরি ছাড়: অসুস্থতা, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা সন্তানদের স্কুল থেকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে এই ১২ ঘণ্টার নিয়মও প্রযোজ্য হবে না।

ডিভিশন বেঞ্চের নতুন ‘শর্ত’: সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখলেও, শান্তি বজায় রাখতে একটি অতিরিক্ত শর্ত জুড়ে দিয়েছে যৌথ বেঞ্চ। সেটি হলো— ‘গ্রুপ রাইডিং’ বা দলবদ্ধভাবে বাইক চালানো যাবে না। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত কাজে একা বা প্রয়োজনে দু’জন যাতায়াত করতে পারলেও, ৫-১০টি বাইক নিয়ে মিছিল বা জটলা করলেই পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

কমিশনের যুক্তি ধোপে টিকল না: কমিশন চেয়েছিল ভোটের ৩৬-৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বাইক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি বিচার না করে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা চাপানো মানে প্রশাসনের ব্যর্থতা স্বীকার করা।

২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে হাইকোর্টের এই রায় সাধারণ ভোটার এবং বাইক চালকদের জন্য মস্ত বড় স্বস্তি নিয়ে এল। এখন থেকে রাস্তায় বেরোতে হলে স্রেফ খেয়াল রাখতে হবে— বাইক যেন ‘মিছিল’ বা ‘বাহিনী’র রূপ না নেয়।

Samrat Das
  • Samrat Das