হাওয়া খেতে বেরোলে বাধা নেই, কিন্তু ‘গ্রুপ রাইডিং’ করলেই বিপদ! ভোট-বাজারে বাইক নিয়ে বড় রায় আদালতের

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাংলায় ‘বাইক বাহিনী’র দাপট রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। কমিশনের আরজিতে সাড়া দিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের আগের রায় সংশোধন করল বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ। এখন থেকে ভোটের ১২ ঘণ্টা নয়, বরং ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই দলবদ্ধ বাইক সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।
আদালতের নির্দেশে কী বলা হয়েছে? কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই ‘বাইক র্যালি’ বা ‘গ্রুপ রাইডিং’ করা যাবে না। অর্থাৎ, চার-পাঁচটি বাইক নিয়ে দল বেঁধে ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে কমিশনের কড়াকড়ির আবহেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় বিশেষ রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত।
কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে ছাড়? (একনজরে নিয়ম):
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জরুরি প্রয়োজনে একা বা সওয়ারি নিয়ে বাইক চালাতে কোনো বাধা নেই। ছাড় মিলবে নিচের ক্ষেত্রগুলিতে:
-
জরুরি পরিষেবা: চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ বা ইমার্জেন্সি সার্ভিসের ক্ষেত্রে বাইক চালানো যাবে।
-
পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্র: স্রেফ হাওয়া খেতে বেরোনো, অফিস যাওয়া বা ব্যক্তিগত পারিবারিক কাজে বেরোলে পুলিশ কাউকে আটকাতে পারবে না।
-
ডেলিভারি ও অ্যাপ বাইক: খাবার ডেলিভারি বয় বা অ্যাপ ক্যাব চালকরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে অনায়াসেই যাতায়াত করতে পারবেন।
কেন এই আইনি লড়াই? নির্বাচন কমিশন চেয়েছিল ৩৬ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক পুরোপুরি বন্ধ রাখতে। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চ তা কমিয়ে ১২ ঘণ্টা করেছিল। কমিশন এরপর ডিভিশন বেঞ্চে ডায়মন্ড হারবারসহ বিভিন্ন জায়গার ‘বাইক বাহিনী’র দাপটের ভিডিও দেখায়। সেই গুরুত্ব বিচার করেই আদালত ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল। তবে বিচারপতি শম্পা সরকার সাফ জানিয়েছেন, “আদালত কারও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না।”
সতর্কবার্তা: ভোটের দিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকে চড়ে ভোট দিতে যাওয়ায় বাধা নেই, তবে সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই দলবদ্ধ হওয়া যাবে না। পরিচয়পত্র সাথে রাখা এবং নিয়ম মেনে চলা এখন প্রত্যেক বাইক আরোহীর জন্য বাধ্যতামূলক।