নারীদের নিরাপত্তায় যোগীর ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! উত্তরপ্রদেশে এবার যমদূত হবে ‘মিশন শক্তি’, জানুন কী এই POSH আইন?

দেশের নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের মানচিত্রে নয়া নজির গড়ল যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাত ধরে রাজ্যে শুরু হওয়া ‘মিশন শক্তি’ অভিযান এখন আক্ষরিক অর্থেই গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। রাজ্যের ৭৫টি জেলাতেই মহিলাদের সুরক্ষা, সম্মান এবং স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।

POSH আইন: কর্মক্ষেত্রে নারীর সুরক্ষাকবচ

কাজের জায়গায় মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে এবার POSH Act 2013 (Sexual Harassment of Women at Workplace) নিয়ে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই আইনের মূল দিকগুলি হলো:

  • আইসিসি কমিটি বাধ্যতামূলক: যে কোনো সংস্থায় যেখানে ১০ জন বা তার বেশি কর্মী রয়েছেন, সেখানে একটি Internal Complaints Committee (ICC) থাকা বাধ্যতামূলক।

  • নিশ্চিত বিচার: অভিযোগ জানানোর পর ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • গোপনীয়তা: অভিযোগকারিণীর পরিচয় ও তথ্যের সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।

শুধু সুরক্ষা নয়, আর্থিক ক্ষমতায়নেও জোর

যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে এই অভিযানে মহিলাদের কেবল আইনি শিক্ষাই দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাঁদের আর্থিক অধিকার নিয়েও সচেতন করা হচ্ছে।

  • সমান কাজের জন্য সমান বেতন সুনিশ্চিত করা।

  • মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে বিশেষ প্রচার।

  • ব্যাঙ্কিং, বিমা এবং সরকারি বিভিন্ন আর্থিক প্রকল্প সম্পর্কে মহিলাদের সরাসরি প্রশিক্ষণ।

মাঠে নেমেছেন বিশেষজ্ঞরা

লখনউ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি আধিকারিক, আইনজীবী, কলেজের ছাত্রী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা এই সচেতনতা অভিযানে শামিল হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো—নারীদের এমন এক পরিবেশ দেওয়া যেখানে তাঁরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরপ্রদেশের এই মডেল দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ করতে যোগী সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অপরাধীদের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে।

Samrat Das
  • Samrat Das