ভোটের ৪৪ ঘণ্টা আগেই রণক্ষেত্র বাংলা! জালে ১৫০০-র বেশি ‘গুণ্ডা’, তালিকায় খোদ তৃণমূল কাউন্সিলর!

দ্বিতীয় তথা শেষ দফার মহারণের আগে আর হাতে সময় নেই। ঠিক তার আগেই রাজ্যজুড়ে ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করল পুলিশ ও প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ১,৫৪৩ জন ব্যক্তিকে, যাঁদের বিরুদ্ধে ভোটের দিন অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই তালিকায় শাসক দলের হেভিওয়েট কাউন্সিলরের নাম থাকায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কোন জেলায় কত গ্রেফতার? একনজরে পরিসংখ্যান:
নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা গোলমাল পাকাতে পারে এমন ব্যক্তিদের ধরতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে। জেলাভিত্তিক গ্রেফতারির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান।
-
পূর্ব বর্ধমান: ৪৭৯ জন (সর্বাধিক)
-
উত্তর ২৪ পরগনা: ৩১৯ জন
-
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৪৬ জন
-
কলকাতা উত্তর: ১০৯ জন
-
হুগলি: ৪৯ জন
-
নদিয়া ও হাওড়া: ৩২ জন (প্রতিটি)
তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রীঘরে, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানে। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর নারু ভগৎকে। যদিও প্রশাসনের তরফে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা খোলসা করা হয়নি, তবে ভোটের ঠিক আগে তাঁর এই গ্রেফতারি শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, জগদ্দলের সাম্প্রতিক গুলি-কাণ্ডের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব ‘গুন্ডা’ ও ‘অশান্তি সৃষ্টিকারীদের’ জেলে ভরার দাবি জানিয়ে আসছিল।
কমিশনের কঠোর অবস্থান
উল্লেখ্য, ভোট শুরুর আগে কমিশন আগেই দুষ্কৃতীদের একটি গোপন তালিকা বা ‘ট্রাবল মেকার লিস্ট’ তৈরি করেছিল। হাইকোর্টে এই নিয়ে বিতর্ক চললেও কমিশনের স্পষ্ট বার্তা ছিল—শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না। জগদ্দলের ঘটনার পর থেকে সেই নজরদারি আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরপাকড় এবং নাকা তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথে পৌঁছাতে পারেন, সেটাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।