খিদে মেটাতে সহযোদ্ধার পা কেটে ভক্ষণ! রুশ সেনাদের ‘নরমাংস’ খাওয়ার বিভীষিকায় কাঁপছে বিশ্ব!

যুদ্ধ মানেই ধ্বংস, মৃত্যু আর হাহাকার। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দান থেকে এবার যে খবর সামনে আসছে, তা সভ্য সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো। তীব্র শীত আর খাদ্যাভাবের কবলে পড়ে রুশ সেনারা নাকি শেষ পর্যন্ত ‘নরমাংস’ ভক্ষণে লিপ্ত হয়েছে! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সানডে টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
ঘটনা ১: মাংস পেষণ যন্ত্রে সহযোদ্ধার পা!
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ঘটনায় রুশ সেনাদের মধ্যে নরমাংস খাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটে দোনেৎস্ক অঞ্চলের মিরনোহরাদ শহরের কাছে। সেখানে ‘ক্রোময়’ (Khromoy) ছদ্মনামের এক রুশ সেনা তাঁর নিজের দুই সহযোদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এক সহযোদ্ধার পা কেটে মাংস পেষণ যন্ত্রে (Meat Grinder) পিষিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ধরা পড়ে যাওয়ার পর অন্য সেনাদের গুলিতে ওই সেনার মৃত্যু হয়।
ঘটনা ২: “মানুষ নয়, ও একটা মৃতদেহ খেয়েছে”
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের হাতে আসা একটি অডিও ক্লিপে দেখা গেছে, জনৈক রুশ সেনা তাঁর ঊর্ধ্বতনের কাছে অভিযোগ করছেন যে, তাঁদের দলের এক সদস্য মানুষের মাংস খেয়েছে। এমনকি এক রুশ কমান্ডারের কণ্ঠে হুঁশিয়ারিও শোনা গেছে— “তোরা কেন ইউক্রেনীয়দের (খোখোল) মাংস খাচ্ছিস? মানুষের মাংস খাওয়া বন্ধ কর!”
কেন এই চরম অবনতি?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ সেনাদের রসদ সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:
-
মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার: সেনাদের যে খাবারের প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে, তার অনেকগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০২ সালেই!
-
তীব্র অনাহার: সপ্তাহের পর সপ্তাহ রসদ না পৌঁছানোয় সেনারা কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে।
-
হতাশা: দিনের পর দিন অভুক্ত থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কেউ কেউ নরমাংস ভক্ষণের মতো জঘন্য পথ বেছে নিচ্ছে।
“আমাদের লোকেরাও শীঘ্রই একে অপরের মাংস খাওয়া শুরু করবে। সব সেনাই এখন হাড়জিরজিরে হয়ে গেছে।” — এক রুশ সেনার ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ থেকে প্রাপ্ত উক্তি।
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
তবে এই সব অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং ‘সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস। তাদের দাবি, রুশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই ইউক্রেন এবং পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এই ধরণের বানোয়াট গল্প প্রচার করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের এই ভয়াল চিত্র সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। যুদ্ধের ভয়াবহতা যে মানুষকে পশুর পর্যায়ে নামিয়ে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।