ভোটের মুখে বসিরহাটে পুলিশের ওপর ভয়াবহ হামলা! তৃণমূল কর্মীদের কাণ্ড দেখে চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয়দের

ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই তেতে উঠছে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক ময়দান। এবার খোদ পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল বসিরহাটের হেমনগর থানা এলাকায়। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা মহকুমায়। অভিযুক্ত দুই তৃণমূল কর্মীকে ইতিমধ্যেই লোহার গরাদের পেছনে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, রবিবার হেমনগর বাজারের মোড়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং মারধর করার অভিযোগ ওঠে সন্তোষ জোতদার ও সঞ্জীব জোতদার নামে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এলাকায় তারা শাসকদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হেমনগর থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশকে দেখামাত্রই উল্টে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।
অভিযোগ, পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে সরাসরি পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হয় তারা। প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি সম্পত্তি ও উর্দিধারীদের ওপর এমন হামলা দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কমিশনের কড়া বার্তা ও ধরপাকড়
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত অ্যাকশনে নামে পুলিশ। হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় সন্তোষ ও সঞ্জীবকে। পুলিশ সূত্রে খবর:
ধৃতদের বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় একাধিক দুষ্কৃতীমূলক কাজের নথিবদ্ধ অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ— যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের অবিলম্বে জালে পুরতে হবে।
সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ই রেয়াত করা হবে না।
আদালতে পেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি
আজ, সোমবার ধৃত দুই ভাইকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে। ভোটের মুখে পুলিশের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এলাকা থমথমে। বাসিন্দাদের মনে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, পুলিশ জানিয়েছে যে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা রুখতে এবং সাধারণ ভোটারদের ভয় কাটাতে এলাকা জুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।