আর কেনা যাবে না সিগারেট! তরুণ প্রজন্মের জন্য ধূমপান আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করল এই দেশ

বিশ্বজুড়ে তামাকমুক্ত সমাজ গড়তে এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাজ্য (UK)। মলদ্বীপের পর এবার ইংল্যান্ডও তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটল। সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘দ্য টোব্যাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট বছরের পর জন্ম নেওয়া নাগরিকরা সারাজীবনের জন্য আইনিভাবে তামাক কেনা থেকে বঞ্চিত হবেন।
কী বলা হয়েছে নতুন আইনে?
ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী:
১ জানুয়ারি ২০০৯ বা তার পরে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন, তাদের কাছে কখনও আইনিভাবে সিগারেট বিক্রি করা যাবে না।
এই আইনটি কার্যকর হবে ২০২৭ সাল থেকে। প্রতি বছর তামাক কেনার নূন্যতম বয়স এক বছর করে বাড়ানো হবে, যাতে এই প্রজন্ম কখনওই ধূমপানের আইনি বয়সে পৌঁছাতে না পারে।
শুধু সিগারেট নয়, ই-সিগারেট বা ভেপ-এর বিজ্ঞাপনী প্রচার এবং শিশুদের আকৃষ্ট করতে পারে এমন ফ্লেভারের ওপরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে।
মলদ্বীপের দেখানো পথেই ব্রিটেন
ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের লড়াইয়ে প্রথম সারিতে রয়েছে মলদ্বীপ। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তারা প্রথম দেশ হিসেবে এই নিয়ম কার্যকর করেছে। সেখানে ২০০৭ সালের পর জন্মানো কারোর জন্য তামাকজাত পণ্য কেনা বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিউজিল্যান্ডও একসময় এমন আইন এনেছিল, তবে সরকার পরিবর্তনের পর তারা তা বাতিল করে দেয়। এখন মলদ্বীপ ও ব্রিটেন বিশ্বকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
[Image showing “No Smoking” sign with a 2009 birth year restriction]
লক্ষ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে ‘স্মোক-ফ্রি’ ইংল্যান্ড
ব্রিটেন সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করা। বর্তমানে লেবার পার্টি সরকার ক্ষমতায় এসে ঋষি সুনকের আনা এই বিলটিকে আইনে পরিণত করে সেই লক্ষ্যেই সিলমোহর দিল। পরিসংখ্যান বলছে:
বিগত ৩৫ বছরে গ্রেট ব্রিটেনে ধূমপানের হার অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ব্রিটেনে ধূমপায়ীর সংখ্যা সবচেয়ে কম।
২০০৭ সাল থেকেই সেখানে জনসমক্ষে ধূমপান নিষিদ্ধ।
কেন এই কড়াকড়ি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (NHS)-এর ওপর বিপুল আর্থিক চাপ পড়ে। এই চক্র ভাঙতেই “প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর” নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে আগামীর শিশুদের তামাকের নেশা থেকে দূরে রাখার এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত।