সূর্য আসবে রোহিণী নক্ষত্রে, জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে বাড়বে বিপদ! ‘নওতপা’ নিয়ে সতর্ক করছেন জ্যোতিষীরা

দেশজুড়ে সূর্যের প্রখর তাপ। একের পর এক শহরে পারদ ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি। কিন্তু হাঁসফাঁস করা এই গরম এখনই কমছে না, বরং আরও ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে। কারণ, ঘনিয়ে আসছে ‘নওতপা’ (Nautapa)। বছরের এই বিশেষ সময়ে গরম তার চরম সীমায় পৌঁছায়।

কী এই ‘নওতপা’? কেন এত গরম বাড়ে?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসে সূর্য যখন রোহিণী নক্ষত্রে প্রবেশ করে, তখন থেকেই শুরু হয় নওতপা। এই সময় পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব কমে আসে, ফলে টানা ৯ দিন প্রচণ্ড দাবদাহ ও তাপপ্রবাহ চলে। এই বছর নওতপা শুরু হচ্ছে ২৫ মে থেকে, যা চলবে ২ জুন পর্যন্ত।

একটি প্রচলিত বিশ্বাস: মনে করা হয়, এই নয় দিন যদি তীব্র গরম থাকে, তবে সেই বছর বর্ষা খুব ভালো হয় এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটে। অর্থাৎ, আগামীর স্বস্তির জন্য এই কদিনের দহন সহ্য করতেই হবে।

নওতপার সময় কী করবেন আর কী করবেন না?
এই কঠিন সময়ে শরীর ও মন সুস্থ রাখতে এবং গ্রহের সুপ্রভাব পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:

১. দান ও সমাজসেবা:
তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত মানুষকে জল বা শরবত পান করানো পুণ্যের কাজ বলে গণ্য হয়। এছাড়া ছাতা, পাখা, ছাতু এবং মরসুমি ফল দান করলে জন্মকুণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থান শক্তিশালী হয়। বাড়ির বাইরে পশু-পাখিদের জন্য জলের পাত্র রাখুন।

২. খাদ্যাভ্যাসে বদল:
এই ৯ দিন আমিষ বা তামসিক খাবার (যেমন পেঁয়াজ, রসুন) এড়িয়ে চলাই ভালো। শরীর ঠান্ডা রাখতে সবসময় তাজা খাবার এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। বাসি খাবার খেলে পেটের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৩. সূর্য উপাসনা:
প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে সূর্য দেবতাকে জল অর্পণ করুন। সূর্য মন্ত্র জপ করলে শরীর ও মনে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার হয়।

৪. ভ্রমণে সতর্কতা:
নওতপার সময় দুপুরের দিকে বাইরে বেরোনো বা দীর্ঘ ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এই সময়ে সরাসরি সূর্যরশ্মি ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।