পকেটে টান! পাম অয়েলের আকালে হু হু করে বাড়ছে দাম, সাবান থেকে শ্যাম্পু—সবই কি মহার্ঘ?

মধ্যবিত্তের হেঁশেল থেকে সাজগোজের টেবিল—সব জায়গাতেই এবার বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং পাম অয়েলের (Palm Oil) তীব্র সংকটের জেরে শীঘ্রই দাম বাড়তে পারে সাবান, শ্যাম্পু থেকে শুরু করে বিস্কুট ও চিপসের। বাণিজ্য মহলের আশঙ্কা, এই দাম বৃদ্ধির হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
কেন এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি?
মূল কারণটি লুকিয়ে আছে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহনের পথ বারবার বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাম অয়েল আমদানিতে।
ভারতের ওপর কেন এত বড় প্রভাব?
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম পাম অয়েল আমদানিকারক দেশ। এক নজরে দেখে নিন আমাদের দেশের পরিসংখ্যান:
বার্ষিক চাহিদা: প্রায় ৯.৬ মিলিয়ন টন (৯৬ লক্ষ টন)।
নিজস্ব উৎপাদন: মাত্র ৪ লক্ষ টন।
নির্ভরশীলতা: চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি মেটাতে হয় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানির মাধ্যমে।
পাম গাছ জন্মানোর জন্য প্রচুর বৃষ্টির প্রয়োজন হয়, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটায় পাম অয়েলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
কোন কোন জিনিসের দাম বাড়তে পারে?
পাম অয়েল কেবল রান্নার তেল নয়, এটি বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রধান কাঁচামাল। ঘাটতির ফলে যে পণ্যগুলো মহার্ঘ হতে পারে:
টয়লেট্রিজ: সাবান ও শ্যাম্পুতে ফেনা তৈরির প্রধান উপাদান হলো পাম তেল। এর ফলে HUL (লাইফবয়, লাক্স) এবং গোদরেজ কনজিউমার (সিনথল)-এর মতো কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
কসমেটিকস: লিপস্টিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের ক্রিম ও লোশনে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
খাদ্যদ্রব্য: বিস্কুট, চিপস এবং বেকারি পণ্যের দামও ৫-১০% বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেক এফএমসিজি (FMCG) কোম্পানি ইতিমধ্যেই তাদের লাভ বজায় রাখতে দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। মে মাসের শুরু থেকেই এই নতুন দামের প্রভাব মধ্যবিত্তের পকেটে পড়তে শুরু করতে পারে।