আরব আকাশে ইজরায়েলি কবজ! ইরানের ২ হাজার ড্রোন রুখতে আমিরাতকে ‘তুরুপের তাস’ দিলেন নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড়। চিরশত্রু ইরানের মুহুর্মুহু হামলা রুখতে এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আবুধাবিকে রক্ষায় নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী ‘আয়রন ডোম’ (Iron Dome) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে তেল আভিভ।

সংকটে পাশে ‘প্রকৃত বন্ধু’ ইজরায়েল
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যখন বিপর্যস্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ঠিক তখনই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপের পর, শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, বরং আয়রন ডোম পরিচালনার জন্য বিশেষ সেনাদলও পাঠায় ইজরায়েল।

হামলার ভয়াবহতা ও ইজরায়েলি প্রতিরোধ
আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া তথ্য চমকে দেওয়ার মতো। জানা গিয়েছে, ইরান আমিরশাহী লক্ষ্য করে:

প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

২,২০০-এরও বেশি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

এই বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে ইজরায়েলের দেওয়া আয়রন ডোম ব্যাটারিগুলো অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কয়েক ডজন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে কয়েক হাজার প্রাণ ও কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রক্ষা করেছে এই সিস্টেম।

ইতিহাসে প্রথমবার: মার্কিন মুলুকের বাইরে নয়া রেকর্ড
একজন ঊর্ধ্বতন ইজরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রথম ইজরায়েল তাদের এই অত্যাধুনিক ব্যাটারি চালিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিদেশি কোনো রাষ্ট্রে মোতায়েন করল। বর্তমানে আমেরিকা এবং ইজরায়েল ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহীই হলো একমাত্র দেশ, যারা এই ‘কিলিং মেশিন’ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে।

“আসল বন্ধু চেনা হয়ে গেছে”
এই ঘটনা ইজরায়েল ও আমিরশাহীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। আমিরশাহীর প্রাক্তন নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারেক আল-ওতাইবা এক নিবন্ধে লিখেছেন, “বিপদের সময়ে আমেরিকা এবং ইজরায়েল যেভাবে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে, তাতে তারাই যে প্রকৃত মিত্র তা প্রমাণিত।” আবুধাবির এক কর্মকর্তা আবেগপ্রবণ হয়ে জানিয়েছেন, সেই সংকটময় মুহূর্তে ইজরায়েলের এই সহায়তার কথা আমিরশাহী কোনোদিন ভুলবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডের পর এই সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আধিপত্য কমানোর পথে এক বড় পদক্ষেপ। একইসঙ্গে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর প্রশংসাও শোনা গেছে আবুধাবির কণ্ঠে।