পকেট মানি হবে ডিজিটাল! গুগল পে-র মাস্টারস্ট্রোক, অ্যাকাউন্ট ছাড়াই ইউপিআই লেনদেনের সুযোগ

বর্তমান যুগে টাকা লেনদেনের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো ইউপিআই (UPI)। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত ইউপিআই ব্যবহার করতে গেলে নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। সাধারণ মানুষের এই সমস্যা মেটাতে এবার যুগান্তকারী ফিচার নিয়ে এল জনপ্রিয় পেমেন্ট অ্যাপ গুগল পে (Google Pay)। লঞ্চ করা হলো বিশেষ ‘পকেট মানি’ (Pocket Money) ফিচার, যার মাধ্যমে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও যে কেউ স্বচ্ছন্দে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

কী এই ‘পকেট মানি’ ফিচার?

এই ফিচারের মূল ভাবনাটি অত্যন্ত সহজ। পরিবারের কোনো একজন সদস্যের (ধরা যাক বাড়ির বড় ছেলে বা মেয়ের) যদি গুগল পে-তে সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে তিনি তাঁর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অন্য একজনকে যুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে, যাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট নেই (যেমন— বয়স্ক মা-বাবা বা ছোট সন্তান), তিনিও ওই প্রাথমিক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনায়াসেই কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

কীভাবে সেট আপ করবেন?

এই নতুন পরিষেবা চালু করার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং সুরক্ষিত:

  • অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক: যাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে, তিনি তাঁর ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্ট থেকে পছন্দের ব্যক্তিকে (বন্ধু বা পরিবারের সদস্য) বেছে নেবেন।

  • রিকোয়েস্ট: এরপর একটি রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। যাঁর অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁর ফোনেও গুগল পে অ্যাপটি থাকতে হবে।

  • সম্পর্ক উল্লেখ: সেটআপের সময় দুই ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পর্ক কী, তা উল্লেখ করতে হবে। এরপর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় ব্যক্তি পেমেন্ট শুরু করতে পারবেন।

নিয়ন্ত্রণ থাকবে আপনার হাতেই!

নিরাপত্তার কথা ভেবে গুগল পে এই ফিচারে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখেছে মূল অ্যাকাউন্টধারীর হাতেই:

  1. অনুমোদন: প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল ব্যবহারকারী চাইলে পেমেন্ট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

  2. খরচের সীমা: শিশুদের হাতখরচ বা দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটার সুবিধার্থে ডিফল্টভাবে প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

  3. নজরদারি: সব লেনদেন যেহেতু মূল ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকেই হবে, তাই খরচের হিসেব রাখাও অনেক সহজ হবে।

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে গুগল পে-র এই পদক্ষেপ প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে অনলাইন পেমেন্টকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।