“জেন-জি নারীরাই আগামীর নেতা!” নারী সংরক্ষণ থেকে ছাত্র রাজনীতি— রাহুল গান্ধীর নিশানায় কারা?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী হঠাৎ পৌঁছে গেলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য গার্গী কলেজে। সেখানে আধঘণ্টারও বেশি সময় ছাত্রীদের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় মাতলেন কংগ্রেস সাংসদ। উঠে এল ক্যাম্পাসে গুন্ডামি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির জ্বলন্ত ইস্যু ‘নারী সংরক্ষণ বিল’। ছাত্রীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে রাহুল সাফ জানালেন, “তরুণ ভারত আসল রূপ চিনতে পেরেছে, জাদুকরের দিন ঘনিয়ে এসেছে।”
ক্যাম্পাসে ‘গুন্ডামি’ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নালিশ
কথোপকথন চলাকালীন গার্গী কলেজের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ছাত্র পরিষদ নির্বাচনের সময় ঘটে যাওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা রাহুলকে জানান তারা। ছাত্রীদের অভিযোগ:
-
কোনো রাজনৈতিক দলের যোগসূত্র না থাকলেও, ভোটের দিন আচমকাই কলেজে ঢুকে পড়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) একদল সমর্থক।
-
ক্যাম্পাসের ভেতরে অবাধে গুন্ডামি ও ছাত্রীদের হেনস্থা করা হয়।
-
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হলো— উপস্থিত পুলিশ বাহিনী নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ছাত্রীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েই হামলাকারীদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দেন।
“নারীরাই পথ দেখাবে”— জেন-জি নিয়ে আশাবাদী রাহুল
বর্তমান প্রজন্মের তরুণীদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী বলেন, “জেন-জি (Gen Z)-ই আমাদের ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে নারীরাই পথ দেখাবে।” তাদের জন্য প্রতিটি সুযোগের দরজা খুলে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল স্পষ্ট জানান, দেশের ভবিষ্যৎ এখন সুরক্ষিত হাতেই রয়েছে।
নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা
নারী সংরক্ষণ প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী বলেন, তাঁর দল বছরের পর বছর ধরে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য লড়াই করেছে। বর্তমান সরকারের আনা বিলটি নিয়ে তিনি কয়েকটি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন:
-
সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিতর্ক: রাহুল একে ‘সংরক্ষণ বিল’ না বলে ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল’ (Delimitation) আখ্যা দেন।
-
আঞ্চলিক বৈষম্য: তাঁর মতে, এই বিলের আড়ালে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক বৈষম্য তৈরির চেষ্টা চলছে।
-
রাজনৈতিক ফায়দা: স্রেফ জনমোহিনী সুবিধা আদায়ের জন্য সরকার তাড়াহুড়ো করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাহুল গান্ধীর প্রস্তাব, “পুরানো নারী সংরক্ষণ বিলটি ফিরিয়ে আনুন, বিরোধী দল তা এখনই সমর্থন করতে প্রস্তুত।”