দিল্লি বিধানসভার ‘স্পেশাল’ মেগা সেশন! কেন ২৮ এপ্রিল তড়িঘড়ি তলব করা হলো বিধায়কদের?

আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৮শে এপ্রিল, সকাল ১১টায় পুরাতন সচিবালয়ের বিধানসভা হলে বসতে চলেছে দিল্লি বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশন। রবিবার এই ঘোষণা করেছেন বিধানসভার স্পিকার বিজেন্দ্র গুপ্ত। লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অনুমোদন পাওয়ার পরই অষ্টম বিধানসভার পঞ্চম অধিবেশন শুরুর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
কেন এই জরুরি অধিবেশন?
যদিও অধিবেশনের চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে নির্ধারিত হবে, তবে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, এবারের অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। এছাড়া বাজেট অধিবেশনে পেশ করা সিএজি (CAG) রিপোর্টগুলি নিয়ে শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী আম আদমি পার্টির (আপ) মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডার সম্ভাবনা রয়েছে।
কড়া নিরাপত্তার চাদরে বিধানসভা
সম্প্রতি পাওয়া বোমা হামলার হুমকির জেরে অধিবেশন ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্পিকার জানিয়েছেন:
-
বিধানসভা চত্বরের ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
-
বিধায়ক ও কর্মীদের কড়া মেটাল ডিটেক্টর এবং তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে।
-
সচিবালয় চত্বরে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সিএজি রিপোর্ট ও পিএসি আপডেট
গত মাসে বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাতটি সিএজি প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছিল। স্পিকার বিজেন্দ্র গুপ্ত জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনও সিএজি প্রতিবেদন বিচারাধীন নেই। মদ নীতি, দূষণ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সংক্রান্ত পিএসি (PAC) রিপোর্টগুলি ইতিপূর্বেই বিধানসভা কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিতে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাতটি প্রতিবেদনও বর্তমানে পিএসি-র অধীনে রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
লেফটেন্যান্ট গভর্নরের আদেশে অষ্টম বিধানসভার চতুর্থ অধিবেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে নতুন এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই একদিনের অধিবেশন কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বরং দিল্লির বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বড় কোনও অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগের মঞ্চ হতে চলেছে। বিজেপি এবং আপ—উভয় পক্ষই একে অপরকে টেক্কা দিতে অধিবেশনে আটঘাট বেঁধে নামছে।