“ভ্রমণে সময় নষ্ট, কাজ অনেক!” ইসলামাবাদ সফর বাতিল করে ইরানকে চরম বার্তা ট্রাম্পের

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির আশা কি তবে বিশ বাঁও জলে? ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক শুরুর আগেই ভেস্তে গেল। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন, অন্যদিকে ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— অবরোধ আর হুমকির মুখে তারা কোনও আলোচনায় বসবে না।

কেন ভেস্তে গেল বৈঠক?

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মুখোমুখি বসার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে সেই সফর বাতিল করার ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় কোনও আলোচনা ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের কড়া অবস্থান: ‘আগে অবরোধ সরান’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসার কারণ হিসেবে মার্কিন চাপকেই দায়ী করেছেন। তাঁর সাফ কথা:

“তেহরান কখনওই জোরপূর্বক বা হুমকির মুখে কোনও আলোচনায় অংশ নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে যদি সত্যিই সমাধান খুঁজতে হয়, তবে প্রথমে ইরানের সমুদ্রবন্দর অবরোধ-সহ যাবতীয় বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে হবে।”

ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ রহস্য

মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিলের পেছনে ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন:

“ভ্রমণেই বড্ড বেশি সময় নষ্ট হচ্ছিল, অথচ কাজের চাপ অনেক বেশি!”

তবে এই সফর বাতিলের অর্থ কি যুদ্ধের দামামা? এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, এর মানে যুদ্ধ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের এক বিশেষ কূটনৈতিক কৌশল বা ‘দরকষাকষি’ (Bargaining power) বাড়ানোর পথ।

বিশ্লেষকদের মত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করতেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ইরানের ‘অনমনীয়’ মনোভাব এই শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘসূত্রিতার দিকে ঠেলে দিল। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এই টানাপোড়েনে এখন ফের মেঘ জমছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে।