অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আর এক ইঞ্চি জমিও নয়! বাংলার মাটি থেকে বাছবিচারের চরম হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

বঙ্গ নির্বাচনের আবহে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। রবিবাসরীয় নদিয়ার জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সাফ দাবি, পূর্বতন সরকারগুলি যেখানে জঙ্গিদের প্রতি ‘নরম’ মনোভাব দেখাত, সেখানে মোদী সরকার ঘরে ঢুকে বদলা নিতে জানে।

“বিরিয়ানি বনাম এয়ারস্ট্রাইক”: শাহের আক্রমণ

বিজেপির শীর্ষ নেতার দাবি, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর দেশের সুরক্ষা বলয় অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। শাহ বলেন:

“মমতা ব্যানার্জি আর কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল, ওরা জঙ্গিদের ‘বিরিয়ানি’ খাওয়াত। কিন্তু মোদী সরকার আসার পর চিত্রটা বদলেছে। উরি থেকে পুলওয়ামা— প্রতিটা হামলার কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ারস্ট্রাইক আর পহেলগাম হামলার পর পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে জঙ্গিদের খতম করেছে মোদী সরকার।”

অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি

এদিন শুধু সন্ত্রাসবাদ নয়, অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলায় বিজেপি সরকার এলে ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে বাংলার মাটি পর্যন্ত— কোথাও কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর জায়গা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে শাহ প্রশ্ন তোলেন, কেন অনুপ্রবেশকারীদের নাম সরালে ‘দিদি’র আপত্তি থাকে? তাঁর হুঁশিয়ারি, ৪ তারিখের পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলেই বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বের করা হবে।

তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’কে সময়সীমা বেঁধে দিলেন শাহ

শনিবার কলকাতার টালিগঞ্জে মেগা রোড-শো করার পর রবিবার শাহের টার্গেটে ছিল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন:

  • “২৯ তারিখ (ভোটের দিন) বাড়ির বাইরে বেরোবেন না।”

  • “ভোটের ফলপ্রকাশের পর (৫ তারিখের পর) কোনও রেয়াত করা হবে না।”

  • “ভয়মুক্ত হয়ে মা-বোনেরা সকাল ৭টায় বুথে গিয়ে পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন।”

কলকাতার উন্নয়ন নিয়ে তোপ

রাজধানী কলকাতাকে ‘বস্তিমুক্ত’ করতে না পারায় মমতার প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন শাহ। তাঁর মতে, উপযুক্ত পরিকল্পনার অভাবে কলকাতার গৌরব ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রথম দফার ভোটে ৯১.৭৮ শতাংশ রেকর্ড ভোটদানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বিজেপি শিবির। দ্বিতীয় দফার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শাহের এই ‘বিরিয়ানি’ ও ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।