উত্তর কলকাতায় মোদী-ঝড়! ঠনঠনিয়া কালীর আশীর্বাদ নিয়ে রাজপথে নামলেন নমো, মানুষের ভিড়ে স্তব্ধ তিলোত্তমা

দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে খোদ তিলোত্তমায় খোদ প্রধানমন্ত্রী! রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার রাজপথে কার্যত মানুষের সুনামি দেখা গেল। বিধানসভা দখলের লক্ষ্যে বঙ্গ সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌঁছে গেলেন উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে। মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই শুরু করলেন তাঁর মেগা রোড-শো।
ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে নমো রবিবার কলকাতায় পা রেখেই সোজা প্রাচীন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিষ্ঠাভরে মা কালীর পুজো দেন এবং কিছুক্ষণ প্রার্থনা করেন। মন্দিরের পুরোহিতরা তাঁকে পুষ্পস্তবক, প্রসাদ ও উত্তরীয় দিয়ে আশীর্বাদ করেন। উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এই মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
জনসমুদ্রে ভাসল উত্তর কলকাতা পুজো দিয়েই সরাসরি হুডখোলা গাড়িতে রোড-শো শুরু করেন নরেন্দ্র মোদী। রাস্তার দু’পাশে তখন হাজার হাজার মানুষের ঢল। কেউ ফুল ছুড়ছেন, কেউ দেখাচ্ছেন বিজেপির পতাকা, আবার কারও হাতে ধরা ‘জয় শ্রী রাম’ লেখা পোস্টার। প্রধানমন্ত্রীও জনতাকে নিরাশ করেননি; হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে বারেবারে সংযোগ স্থাপন করেন তিলোত্তমার মানুষের সঙ্গে।
বিজেপির তুরুপের তাস রাজ্য রাজনীতির কারবারিদের মতে, উত্তর কলকাতা বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলায় ৯১.৯১ শতাংশ রেকর্ড ভোট পড়ার পর দ্বিতীয় দফার আগে মোদীর এই রোড-শো বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই সফরকে “মায়ের আশীর্বাদ” বলে প্রচার করলেও, তৃণমূলের কটাক্ষ— “এটি শুধুই একটি রাজনৈতিক সফর, ভোটে এর কোনও প্রভাব পড়বে না।”
রাজনীতির পারদ তুঙ্গে আগামী ৪ মে ফল ঘোষণার আগে প্রতি এক ইঞ্চি জমি কামড়ে লড়াই করছে গেরুয়া শিবির। আজকের রোড-শো-র পর রাতেই মোদীর একাধিক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়াতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মোদীর রোড-শো ঘিরে উত্তর কলকাতায় আজ যে উন্মাদনা দেখা গেল, তা আসন্ন ভোটযুদ্ধে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।