ভোট দিতেই হবে, নয়তো নাম কাটা যাবে! ‘SIR’ আতঙ্কে ঘরমুখো হাজারো শ্রমিক, মালদা স্টেশনে থিকথিকে ভিড়!

ভোট মিটেছে, উৎসবের আমেজ ফিকে হতেই এবার রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। রবিবারের সকাল থেকেই মালদা টাউন স্টেশনে তিল ধারণের জায়গা নেই। পেটের টানে কেউ ছুটছেন কেরল, কেউ পুনে কিংবা সুরাটে। কিন্তু এবারের ফেরার পথে তাঁদের ব্যাগে জামাকাপড়ের চেয়েও বেশি যত্ন করে রাখা রয়েছে একটি ল্যামিনেশন করা কাগজ— ‘ভোটার স্লিপ’।

আতঙ্কই ফেরাল ঘরে? প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটে মালদা ও দুই দিনাজপুরের শ্রমিকরা যেভাবে ঘরমুখো হয়েছিলেন, তার পেছনে উৎসবের চেয়েও বেশি কাজ করেছে এক অজানা আতঙ্ক। SIR (এসআইআর) এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় কাজ করেছে সাধারণ শ্রমিকদের মনে। তাঁদের আশঙ্কা, ভোট না দিলে যদি নাগরিকত্ব চলে যায়? সেই দোলাচলেই গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে ভিন রাজ্য থেকে ছুটে এসেছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক।

স্লিপই এখন ‘নাগরিকত্বের রক্ষাকবচ’ এদিন স্টেশনে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব ছবি। বেশিরভাগ শ্রমিকের হাতে বা পকেটে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটার স্লিপ। তবে তা সাধারণ কাগজের মতো নয়, যত্ন করে ল্যামিনেশন করা। সুরাটের কার্টুন ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শিবলাল বালার কথায়, “শুনলাম ভোট না দিলে নাকি নাম বাদ যাবে, তাই আসতে বাধ্য হলাম। এখন এই স্লিপটাই আমাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ।” বৈষ্ণবনগরের বাচ্চা সরকার কিংবা রতুয়ার সাদিক ইসলামদের কণ্ঠেও একই সুর। ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, এখন সম্বল ওই এক টুকরো কাগজ আর অনিশ্চিত কর্মজীবন।

স্টেশনে মানুষের সুনামি গতকাল থেকেই মালদা টাউন স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আজ সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ট্রেনের জেনারেল বগি থেকে স্লিপার ক্লাস— সব জায়গাতেই কার্যত বাদুড়ঝোলা ভিড়। রেল কর্মীদের মতে, প্রতি ভোটের পর এই ছবি দেখা গেলেও এবার ভিড়ের মাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় নগন্য।

ভোটের ফল কী হবে, তা জানতে আরও কয়েকদিন বাকি। কিন্তু সেই ফলাফলের অপেক্ষায় ঘরে বসে থাকার বিলাসিতা নেই পরিযায়ী শ্রমিকদের। কারণ, রাজনীতি তাঁদের ভোট নিলেও পেট ভরানোর দায়িত্ব নেয়নি। তাই ভোটার স্লিপকে ‘লাইফ জ্যাকেট’ বানিয়ে ফের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছেন বাংলার এই হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ।