রাতদুপুরে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে তান্ডব! স্ত্রী-শাশুড়িকে নৃশংস খুন, জামাইয়ের হাড়হিম করা কাণ্ডে কাঁপছে উত্তরপ্রদেশ

উত্তরপ্রদেশের বল্লিয়া জেলার বাচাইপুর গ্রামে ঘটে গেল এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে যে যুবকের হাত ধরেছিলেন তরুণী, সেই স্বামীই শেষে ‘যমদূত’ হয়ে কেড়ে নিলেন প্রাণ। শনিবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রী ও শাশুড়িকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে খুন করল ঘাতক জামাই। এই ঘটনায় শ্বশুরও বর্তমানে মৃত্যুশয্যায়।

নিঃশব্দে প্রবেশ, তারপরই শুরু নারকীয় হত্যালীলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বোন কীর্তির বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্ত অমিত গুপ্তা শনিবার রাতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাচাইপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে ঢোকে। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বাড়ির বাইরেই নিজের চপ্পল খুলে রেখে নিঃশব্দে ঘরে ঢোকে সে। সোজা ঘরে গিয়ে স্ত্রী প্রীতির কোল থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অমিত। প্রীতি বাধা দিয়ে চিৎকার শুরু করতেই নিজের সাথে আনা ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে।

বাঁচাতে এসে রক্তাক্ত পুরো পরিবার
মেয়ের আর্তনাদ শুনে মা সুশীলা দেবী পাশের ঘর থেকে ছুটে এলে পাষণ্ড অমিত তাঁকেও বুক ও পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। গোলমাল শুনে বাবা অন্তু গুপ্তা সেখানে পৌঁছালে উন্মাদ অমিত তাঁকেও রেহাই দেয়নি। বড় বোন ও বাবা-মাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন কীর্তিও, তবে কোনোমতে প্রাণ হাতে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে বাঁচেন তিনি।

ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রীতি ও তাঁর মা সুশীলা দেবীর। গুরুতর আহত অন্তু গুপ্তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বারাণসীতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

পালিয়ে বিয়ে থেকে খুনের নেপথ্যে কী?
জানা গেছে, ২০২২ সালে বাড়ির অমতে অমিতের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন প্রীতি। দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিন্ন থাকার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে পরিবার তাঁদের মেনে নেয় এবং অমিতকে জামাই হিসেবে বরণ করে। কিন্তু সেই হাসিখুশি সম্পর্কের আড়ালে কী এমন বিবাদ দানা বেঁধেছিল যে অমিত এমন নৃশংস পথ বেছে নিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশি তৎপরতা
ঘটনার খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সুপার (এসপি) ওমবীর সিং। তিনি জানান, “অভিযুক্ত অমিত গুপ্তা বর্তমানে পলাতক। তাকে ধরার জন্য পুলিশের তিনটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”