‘ভয়ঙ্কর খেলব ৪ তারিখ!’ ডায়মন্ড হারবারে বাইক বাহিনীর হুমকির পরেই পুলিশের বড় অ্যাকশন

ভোট মানেই কি সন্ত্রাস? ডায়মন্ড হারবারের পরিস্থিতি দেখে এমনটাই প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল। পাড়ায় ঢুকে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ‘ভয়ঙ্কর খেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে বাইক বাহিনীর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে কী দেখা গিয়েছে?
কমিশনের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একদল যুবক বাইক নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কারও মাথায় হেলমেট নেই, এক একটি বাইকে দুই-তিনজন করে সওয়ারি। তারা চিৎকার করে ভোটারদের শাসিয়ে বলছে, “ভয়ঙ্কর খেলব ৪ তারিখ, মনে থাকে যেন!” ২৯ তারিখের ভোটের আগে এই ধরণের হুমকি ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে কোনও আপস করা হবে না।
৫ পুলিশ আধিকারিক সাসপেন্ড, বদলানো হলো আইসি-ও
শুধু এফআইআর নয়, কর্তব্যে গাফিলতি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-সহ মোট ৫ জন উচ্চপদস্থ অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। ডায়মন্ড হারবার মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের (SDPO) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজয় যাদবকে। ফলতা এবং উস্তি থানাতেও নতুন আইসি ও ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই আমূল রদবদল প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ডায়মন্ড হারবারকে পাখির চোখ করছে কমিশন।
বাইক নিয়ে হাইকোর্টের নয়া নির্দেশ
এদিকে বাইক বাহিনীর দাপট রুখতে কমিশন যে কড়াকড়ি জারি করেছিল, তাতে সামান্য রদবদল ঘটিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে:
ভোটের ২ দিন আগে থেকে নয়, কড়াকড়ি শুরু হবে ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে।
তবে জরুরি প্রয়োজনে (মেডিক্যাল বা পারিবারিক অনুষ্ঠান) ছাড় মিলবে।
স্কুলপড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও বাইকে চড়াতে কোনও বাধা নেই।
নির্বাচন কমিশনের বার্তা
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারেন, তার জন্য নতুন পুলিশ কর্তাদের ২৪ ঘণ্টা সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘ভয়ঙ্কর খেলার’ হুমকির পাল্টা কমিশন এখন কতটা শক্ত হাতে ‘খেলতে’ পারে, নজর থাকবে সেদিকেই।