মুর্শিদাবাদ থেকে শিলিগুড়ি—বাংলার ৪ খুদের ঘরে মোদীর চিঠি! নেপথ্যে এক চমৎকার ভালোবাসার গল্প

ভোট প্রচারে ব্যস্ততার মাঝেই বাংলার খুদে শিল্পীদের মন জিতলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্রেফ রাজনৈতিক স্লোগান বা জনসভা নয়, এবার শৈল্পিক ছোঁয়ায় মানুষের হৃদয়ে পৌঁছালেন তিনি। মুর্শিদাবাদ ও শিলিগুড়ির চার খুদে শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি দেখে তাঁদের বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী।
কীভাবে এই অভাবনীয় কাণ্ড ঘটল?
সম্প্রতি শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জনসভাগুলিতে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর নজর কাড়ে কয়েক জন খুদে পড়ুয়া। তাদের হাতে ছিল মোদীর নিজের হাতে আঁকা স্কেচ ও রঙিন সব ছবি। মঞ্চ থেকেই সেই ছবিগুলি পরম স্নেহে সংগ্রহ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ছবিগুলোর পেছনে প্রত্যেক শিল্পীর নাম ও ঠিকানা লিখে দিতে বলেন। সেই ঘটনার ঠিক দুই সপ্তাহ পরই এল বড় সারপ্রাইজ! প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখে স্বরূপ, ত্রিশাগ্নী, অনুষ্কা ও চন্দনকে ধন্যবাদ জানালেন।
কারা এই চার খুদে শিল্পী?
প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে মুর্শিদাবাদের স্বরূপ হালদার ও ত্রিশাগ্নী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের চন্দন মল্লিক ও অনুষ্কা দাস।
স্বরূপ হালদার (মুর্শিদাবাদ): প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে আপ্লুত স্বরূপ জানায়, “তিনি আমার কথা ভেবেছেন, আমার শিল্পকর্ম দেখেছেন, এটাই আমার কাছে সবথেকে বড় পাওনা।”
ত্রিশাগ্নী বন্দ্যোপাধ্যায় (মুর্শিদাবাদ): সারারাত জেগে নিখুঁতভাবে মোদীর স্কেচ বানিয়েছিল সে। তার কথায়, “মোদীজি আমায় চিঠি পাঠাবেন তা বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি কৃতজ্ঞ।”
চন্দন মল্লিক ও অনুষ্কা দাস (দার্জিলিং/শিলিগুড়ি): নবম শ্রেণির এই দুই পড়ুয়া গত ১২ এপ্রিল শিলিগুড়ির সভায় মোদীকে উপহার দিয়েছিল তাঁদের স্কেচ। চিঠিতে মোদী তাঁদের হাতের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
অনুপ্রেরণার নতুন নজির
সাধারণত রাজনৈতিক সভাতে নেতাদের ব্যস্ততা থাকলেও, নরেন্দ্র মোদীর এই সংবেদনশীল উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ বার্তা দিল। নিজের পোট্রেট আঁকিয়েদের শুধু ধন্যবাদ দেওয়াই নয়, তাঁদের নাম মনে রেখে ঠিকানায় চিঠি পাঠানো বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিও এক অনন্য সম্মান বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই স্বীকৃতি যে খুদে শিল্পীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহ দেবে, তা বলাই বাহুল্য।