আসানসোলে কংগ্রেস সমর্থক খুনে ধৃত ৩, কোচবিহারে বিজেপি নেতার দোকানে আগুন! ভোটের পরেও অশান্ত বাংলা

রাজ্যে প্রথম দফার ভোট মিটে গেলেও অশান্তির মেঘ কাটছে না। আসানসোলে কংগ্রেস সমর্থক দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করল আসানসোল সাউথ থানার পুলিশ। অন্যদিকে, কোচবিহারের নাটাবাড়িতে বিজেপি নেতার দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী খুন, জালে ৩:
গত শুক্রবার রাতে জন্মদিনের পার্টি সেরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাড়ি করে ফিরছিলেন কংগ্রেস সমর্থক দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়। পথে একটি বাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, বাইক আরোহী ও তার সঙ্গীরা দেবদীপকে ধাওয়া করে তাঁর আবাসনের গেট পর্যন্ত আসে এবং সেখানে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। শনিবার সকালে বাড়িতেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি তৎপরতা: ডিসি ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এক নাবালক-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, এই ঘটনার পেছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই, বরং পথ বিবাদ থেকেই এই চরম পরিণতি।
অভিযোগ: যদিও মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সেই আক্রোশ থেকেই এই খুন।
নাটাবাড়িতে বিজেপি নেতার দোকানে আগুন:
ভোট পরবর্তী হিংসার ছায়া এবার কোচবিহারের নাটাবাড়িতে। শনিবার রাতে বিজেপির মণ্ডল সম্পাদক দীপক দাসের দোকান ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতার দাবি, ভোটের আগে থেকেই তাঁকে দোকান বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের দাবি, এটি তাঁদের বিরুদ্ধে সাজানো চক্রান্ত।
ভোটের প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে আসানসোলও ছিল। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। তার আগে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
নির্বাচন পরবর্তী এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে কমিশন। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং দ্বিতীয় দফার ভোটে এর প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।