“বাংলায় বাবরি মসজিদ গড়তে দেব না!” জামালের সভা থেকে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের

প্রথম দফার ভোট মিটতেই বঙ্গ রাজনীতির লড়াই এবার চরমে। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে জনসভা করতে এসে কার্যত জয়ের হুঙ্কার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করে ফেলেছে বিজেপি। আর এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তাঁর ঘোষণা— ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বর্ধমানের বিখ্যাত ‘সীতাভোগ’ খাইয়ে জয় উদযাপন করবেন তিনি।

“বাংলায় বাবরি মসজিদ গড়তে দেব না”

এদিন জামালপুরের সভামঞ্চ থেকে ধর্মীয় মেরুকরণের সুর তীব্র করেন অমিত শাহ। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “মমতা দিদির চ্যালারা বাংলায় বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই বাংলা ভারতের পবিত্র ভূমি। এখানে কোনওভাবেই বাবরি মসজিদ গড়তে দেওয়া হবে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।

নারী নিরাপত্তা ও ‘রাত ১টার’ গ্যারান্টি

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করেন শাহ। আরজি কর এবং সন্দেশখালির ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় নারীরা অসুরক্ষিত হয়ে পড়েছেন। শাহের প্রতিশ্রুতি, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা এমন মজবুত হবে যে, রাত ১টার সময়ও একটি শিশু নিরাপদে বাইরে বেরোতে পারবে, কেউ চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না।”

অনুপ্রবেশ ও সিএএ (CAA) ইস্যু

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার যুবকদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। বিজেপি সরকার গড়লে তাঁদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে। পাশাপাশি মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষদের দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ৫ মে-র পর সিএএ কার্যকর করে প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

আর্থিক প্রতিশ্রুতির ডালি

ভোটের মুখে জামালপুরের জনসভা থেকে একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রতিশ্রুতিও দেন শাহ:

  • মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা।

  • বেকার যুবকদের আর্থিক সাহায্য ও কর্মসংস্থান।

  • কৃষকদের ধান ও আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।

  • ‘ভাইপো ট্যাক্স’ ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান।

সব মিলিয়ে জামালপুরের সভা থেকে অমিত শাহ বুঝিয়ে দিলেন, ২০২৬-এর এই লড়াইয়ে বিজেপি কোনো জমি ছাড়তে রাজি নয়। ৪ মে বাংলায় সত্যিই ‘পরিবর্তন’ আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।