১০ হাজার টাকা ঘুষের প্রমাণ গায়েব! ইঁদুরের কেরামতিতে বড় স্বস্তি পেলেন বিহারের মহিলা আধিকারিক

সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে বিহারের এই ঘটনা। ঘুষের অভিযোগে ফেঁসেছিলেন সরকারি আধিকারিক, কিন্তু শেষমেশ তাঁকে ‘বাঁচিয়ে দিল’ একদল ইঁদুর! বিহারের এক মহিলা আধিকারিকের ঘুষের টাকা মালখানায় রাখা ছিল, যা নাকি ইঁদুরে খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে। এই অদ্ভুতুড়ে ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে ওই আধিকারিকের সাজায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
ঘটনাটি ঠিক কী? বিহারের তৎকালীন ‘শিশু বিকাশ কর্মসূচি আধিকারিক’ অরুণা কুমারীর বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দুর্নীতি দমন আইনে মামলাও হয়। নিম্ন আদালত তাঁকে মুক্তি দিলেও পাটনা হাইকোর্ট তাঁকে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু মামলার মোড় ঘোরে তখন, যখন জানা যায় ঘুষের সেই জব্দ করা নোটগুলো প্রমাণের জন্য আদালতে পেশ করা সম্ভব নয়। কারণ? পুলিশের দাবি— মালখানায় রাখা সেই টাকা ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে!
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: শুক্রবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ অরুণা কুমারীর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, ইঁদুরে টাকা খেয়ে ফেলার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। বেঞ্চ মন্তব্য করে, “আমরা এটা জেনে স্তম্ভিত যে বাজেয়াপ্ত নোটগুলো ইঁদুর নষ্ট করে ফেলেছে। এটা শুধু তদন্তের গাফিলতি নয়, বরং রাজ্যের রাজস্বের বড় ক্ষতি।”
হাইকোর্ট বনাম সুপ্রিম কোর্ট: এর আগে পাটনা হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ঘুষের নোট না থাকলেও মালখানার রেজিস্টারে যেহেতু টাকার উল্লেখ আছে, তাই সাজা বহাল থাকবে। তবে দেশের শীর্ষ আদালত আপাতত সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।
আপাতত ইঁদুরের এই ‘কাণ্ডে’ বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন ওই মহিলা আমলা। তবে সত্যিই কি ইঁদুর টাকা খেয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে হাসাহাসি।