‘তৃণমূলের সেঞ্চুরি হয়ে গিয়েছে!’ ভোটের মাঝেই বড় ধামাকা অভিষেকের, সংখ্যা নিয়ে তোলপাড়!

পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়ল তুঙ্গে। ফলপ্রকাশের ঢের দেরি থাকলেও, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী দুই প্রধান শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বই। এবার বসিরহাটের প্রচারসভা থেকে তৃণমূলের জয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূলের আসন সংখ্যা ‘সেঞ্চুরি’ পার করে ফেলেছে!

২৯ তারিখেই ‘ডাবল সেঞ্চুরি’?

শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন অভিষেক। সেখান থেকেই কর্মীদের চাঙ্গা করতে তিনি বলেন,

“আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, পরশু প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে এবং তৃণমূল ইতিমধ্যেই ১০০-র গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোটের পর সংখ্যাটা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ হবে।”

সংখ্যা ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বসিরহাট দক্ষিণ, সন্দেশখালি এবং হাড়োয়ার মতো এলাকাগুলোয় বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেওয়ার ডাক দেন।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

অভিষেক যখন তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, ঠিক সেই সময়েই রাজ্য সফরে এসে বঙ্গ বিজেপির জয়ের ভবিষ্যৎবাণী করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি দাবি করেছেন,

  • অসমে বিজেপি ১০০ আসন পাবে।

  • বাংলায় ২০০-র বেশি আসনে জিতে বিজেপি সরকার গড়বে।

হিমন্তের দাবি, বাংলায় এবার পরিবর্তনের ‘সুনামি’ বইছে, যা বিজেপিকে ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই পার করিয়ে দেবে।

‘আন্দাজে কথা বলবেন না’: কটাক্ষ অধীরের

শাসক-বিরোধী দুই পক্ষের এই ‘নম্বর গেম’ নিয়ে পাল্টা তোপ দেগেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর মতে, নেতাদের এই ভবিষ্যদ্বাণী নেহাতই ‘মনগড়া’। অধীর চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, “আন্দাজে কথা না বলে জনগণনা বা জাতগণনা করিয়ে নিলেই তো বোঝা যায় মানুষ কী ভাবছেন। বাংলায় কেবল মেরুকরণের রাজনীতি চলছে, উন্নয়নের কোনও বালাই নেই।”


সম্পাদকীয় মন্তব্য: প্রথম দফার ৯০ শতাংশের ওপর রেকর্ড ভোটদান কি সত্যিই শাসক দলের পক্ষে যাবে? নাকি পরিবর্তনের হাওয়ায় লাভবান হবে পদ্ম শিবির? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। তবে ভোটের মাঝপথেই এই ‘আসন যুদ্ধ’ যে ভোটারদের কৌতূহল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।