আগ্রায় হাহাকার! ব্যাঙ্কের লকারে থাকা আমানত নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় গ্রাহকরা, উদ্ধারকাজে বড় আপডেট দিল কর্তৃপক্ষ

উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল একটি রাষ্ট্রীয়াত্ত ব্যাঙ্ক। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ব্যাঙ্কের একটি শাখা ভবন। ধ্বংস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে ব্যাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। ঘটনার পর থেকেই নিজেদের গচ্ছিত আমানত ও লকারে থাকা সোনা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন শত শত গ্রাহক।
ঠিক কী ঘটেছে? আগ্রার এই ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয়াত্ত ব্যাঙ্কের শাখাটি বেশ পুরনো একটি ভবনে চলত। বৃহস্পতিবার আচমকাই ভবনটির একাংশ ভেঙে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ব্যাঙ্কের ভোল্টে থাকা নগদ টাকা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও লকার রুমটি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে রয়েছে।
গ্রাহকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ: ব্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমাতে শুরু করেন গ্রাহকরা। তাঁদের প্রধান উদ্বেগ:
-
লকারের সম্পদ: অনেক গ্রাহকই তাঁদের সারাজীবনের সঞ্চয় ও পারিবারিক গয়না ব্যাঙ্কের লকারে রেখেছিলেন।
-
বন্ধকী সোনা (Gold Loan): যারা সোনার বিনিময়ে ঋণ নিয়েছিলেন, তাঁদের বন্ধক রাখা গয়নার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস: জেলা প্রশাসন এবং ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে: ১. নগদ টাকা সুরক্ষিত: ব্যাঙ্কের সমস্ত নগদ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডেটা সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। ২. লকার ও নিরাপত্তা: কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লকারগুলো উচ্চমানের ইস্পাত দিয়ে তৈরি এবং অগ্নি ও ভার নিরোধক। ফলে ভবন ভেঙে পড়লেও লকার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেগুলি উদ্ধার করতে সময় লাগবে। ৩. বীমা কভারেজ: ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী লকারের সম্পদ ও বন্ধকী সোনার জন্য নির্দিষ্ট বীমা থাকে, তাই গ্রাহকদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
প্রশাসনের মন্তব্য: “আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে লকারগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফি করা হবে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বর্তমানে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাঙ্কের ওই শাখার কাজকর্ম সাময়িকভাবে নিকটবর্তী অন্য শাখায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।