“১৫ বছর পরেও কেন ভয় পাবেন মহিলারা?” শাহ-মোদীর নিশানায় মমতার নারী সুরক্ষা, উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি!

আরজি কর আবহে নারী সুরক্ষায় ঘটা করে ঘোষিত হয়েছিল ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রকল্প। কিন্তু ভোটের মুখে সেই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েই এবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল বিজেপি। শনিবার নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে বাংলায় নারী সুরক্ষা আদতে ‘অধরা’ রয়ে গিয়েছে। ‘রাত্তিরের সাথী’ কি তবে স্রেফ ভোটের আগে জনমোহিনী চমক? এই প্রশ্ন তুলেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
বিজেপির কড়া আক্রমণ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ— বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার বাংলার নারী সুরক্ষা ইস্যুটিকে হাতিয়ার করছেন। এদিন দলীয় সভার মঞ্চ থেকে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যে রাজ্যে হাসপাতালের ভেতরেই চিকিৎসকরা নিরাপদ নন, সেখানে ‘রাত্তিরের সাথী’র মতো প্রকল্প প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। বিজেপির প্রশ্ন, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও কেন মহিলাদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ প্রকল্পের প্রয়োজন পড়ছে? কেন সাধারণ পরিবেশেই মহিলারা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারছেন না?
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়: আরজি কর কাণ্ডের পর তড়িঘড়ি ‘রাত্তিরের সাথী’ (Rattirer Sathi) নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য। সেখানে নাইট ডিউটিতে মহিলাদের ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে খোদ সুপ্রিম কোর্টও রাজ্যকে ভর্ৎসনা করেছিল। বিজেপির অভিযোগ, সুরক্ষার নামে মহিলাদের কাজের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে তৃণমূল সরকার। তাদের দাবি, গত ১৫ বছরে রাজ্যে নারী নির্যাতনের হার যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এই ধরণের ‘আইওয়াশ’ প্রকল্প কোনো কাজে আসবে না।
মমতার পাল্টা চ্যালেঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের মধ্যে কলকাতাই মহিলাদের জন্য সবথেকে নিরাপদ শহর। ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে নাইট ডিউটিতে থাকা মহিলাদের জন্য আলাদা রেস্টরুম, সিসিটিভি এবং নিরাপত্তা রক্ষীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিরোধীরা স্রেফ কুৎসা ছড়ানোর জন্যই এই ধরণের কথা বলছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভোটের ময়দানে নারী সুরক্ষা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে বিজেপি ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ এবং মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল তাদের দীর্ঘদিনের নারী কল্যাণমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরছে। এখন দেখার, ‘রাত্তিরের সাথী’ বিতর্ক ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।