টুইটারই হবে এবার ডিজিটাল ব্যাংক! ‘X Money’ নিয়ে মাস্কের নতুন ধামাকা, ৬% সুদে চমক

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’ (সাবেক টুইটার)-কে একটি ‘এভরিথিং অ্যাপ’ বা সর্বকার্যকরী অ্যাপে পরিণত করার যে স্বপ্ন ইলন মাস্ক দেখছিলেন, তা এখন বাস্তবায়নের পথে। ‘XChat’-এর পর এবার আসছে ‘X Money’। সরাসরি অ্যাপের মধ্যেই ব্যাংকিং এবং আর্থিক লেনদেনকে একীভূত করতে চলেছে এই নতুন পরিষেবা। মজার ব্যাপার হলো, পেপ্যাল (PayPal) তৈরির কারিগর মাস্ক এখন নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মেই সেই পুরনো ম্যাজিক নতুন আঙ্গিকে ফেরাতে চলেছেন।
X Money-তে কী কী থাকছে?
ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং বিটা পরীক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক্স মানি শুধুমাত্র একটি পেমেন্ট গেটওয়ে নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা দেবে:
পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) পেমেন্ট: কাউকে টাকা পাঠানোর জন্য আর আলাদা ব্যাংক অ্যাপ খুলতে হবে না। সরাসরি চ্যাট বক্সে বা ইউজারের প্রোফাইলে গিয়েই টাকা পাঠানো যাবে।
পার্সোনালাইজড ডেবিট কার্ড: ব্যবহারকারীরা তাদের ‘X’ হ্যান্ডেল বা ইউজারনেম যুক্ত একটি বিশেষ Visa Debit Card পাবেন। এটি দিয়ে দোকানের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এটিএম থেকে টাকা তোলা— সবই করা যাবে।
বিস্ফোরক ক্যাশব্যাক ও সুদ: শোনা যাচ্ছে, প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট পেমেন্টে ৩% ক্যাশব্যাক এবং গচ্ছিত টাকার ওপর বার্ষিক ৬% পর্যন্ত সুদ পেতে পারেন। প্রথাগত ব্যাংকের তুলনায় এই সুদের হার অবিশ্বাস্যভাবে বেশি।
xAI অ্যাসিস্ট্যান্ট: মাস্কের নিজস্ব এআই সংস্থা ‘xAI’ একটি ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি করছে, যা আপনার খরচের হিসাব রাখবে এবং লেনদেনগুলো সহজভাবে সাজিয়ে দেবে।
কেন লঞ্চ হতে দেরি হচ্ছে?
ইলন মাস্ক চেয়েছিলেন ২০২৫-এর শেষেই এটি চালু করতে, কিন্তু আইনি জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়।
লাইসেন্স জট: আমেরিকায় পেমেন্ট পরিষেবা চালু করতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে আলাদা লাইসেন্স প্রয়োজন। নিউ ইয়র্ক এবং ম্যাসাচুসেটসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এখনও লাইসেন্স প্রক্রিয়া চিকিৎসাধীন।
ধাপে ধাপে রোলআউট: বর্তমানে আমেরিকায় প্রায় ৪০টিরও বেশি রাজ্যে লাইসেন্স পেয়ে গেছে ‘X Payments LLC’। ফলে খুব শীঘ্রই এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত আকারে যাত্রা শুরু করবে এবং পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
টেক-এডিটরের পর্যবেক্ষণ
ইলন মাস্কের লক্ষ্য স্পষ্ট— চীনের ‘উইচ্যাট’ (WeChat)-এর মতো একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করা। যেখানে মানুষ খবর পড়বে, কথা বলবে এবং কেনাকাটা বা ব্যাংকিং-ও করবে। যদি ‘X Money’ সফল হয়, তবে এটি চিরাচরিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং অনলাইন পেমেন্ট অ্যাপগুলোর (যেমন- Google Pay বা Apple Pay) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
আপনার প্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলটি যদি একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বদলে যায়, তবে কি আপনি তা ব্যবহার করবেন? কমেন্টে জানান আমাদের!