“দাঙ্গা করতে এলেই ডাণ্ডা ভাঙবে!” সাতসকালে চায়ের আড্ডায় কাকে হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ?

রাজ্যে প্রথম দফার ভোট মিটতেই এখন নজর দ্বিতীয় দফার দিকে। আর সেই হাইভোল্টেজ ভোটের আগে সাতসকালে খোশমেজাজে ধরা দিলেন বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। উত্তর কলকাতার কাঁকুড়গাছি সংলগ্ন মতিলাল বসাক লেনে এদিন ‘চায়ে পে চর্চা’-য় যোগ দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে চায়ের আড্ডায় বসে রাজনীতির পারদ আরও চড়ালেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ।
“দাঙ্গা করলে ডাণ্ডা ভাঙবে”: বিরোধীদের কড়া বার্তা
প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে দাবি করে দিলীপ ঘোষ জানান, দ্বিতীয় দফায় কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, “আমরা এবার ওদের (তৃণমূলের) কোর এলাকায় ঢুকছি। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিন। দাঙ্গা লাগাতে এলেই এবার ডাণ্ডা ভাঙবে।” এমনকি তৃণমূলের জয় নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি যোগ করেন, “তৃণমূল ৪ তারিখ (ভোট গণনা) পর্যন্তই জিতবে, আমরা জিতব ৪ তারিখের পর।”
যাদবপুর ও ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ প্রসঙ্গ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের রেশ টেনে দিলীপ ঘোষ এদিন বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন। তিনি বলেন, “যাদবপুরে মেধাবী ছাত্ররা পড়ে ঠিকই, কিন্তু সেখানে দেশদ্রোহী কাজও হয়। বাবুল সুপ্রিয় বা রাজ্যপালের সাথে কী আচরণ করা হয়েছিল তা সবার মনে আছে। এটাও মনে রাখা দরকার, আমরা ওখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিলাম। এটা ভুলে গেলে চলবে না।”
ইডির তৎপরতা ও আম আদমি পার্টি
ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তা নিয়ে দিলীপের সাফ কথা, ইডি সারা বছরই কাজ করে। রাজ্যে দুর্নীতির পাহাড় জমেছে বলেই তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি রাঘব চাড্ডাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “আম আদমি পার্টির ভালো লোকেরা বিজেপিতে চলে আসছেন। ক্ষমতার মোহ কাটলেই ধান্দাবাজির দল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”
বাইক বাহিনী রুখতে কড়া কমিশন
ভোটের সময় বাইক নিয়ে কমিশনের কড়াকড়িকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বাইক ব্যবহার করেই টাকা ও মদ বিলি করা হয় এবং এলাকায় অশান্তি ছড়ানো হয়। তাই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বাইকের ওপর বিধিনিষেধ জারি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।