আঠারো হয়েছে বয়স, তবুও হাতে নেই ভোটদানের অধিকার! সরকারি ভুলে বঞ্চিত তরুণী, তোলপাড় এলাকা

আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার পর জীবনের প্রথম ভোট দেবেন—এই ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তরুণী জানতে পারলেন, সরকারি নথির এক মারাত্মক ভুলে তাঁর সেই গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিএলও-র (BLO) চরম গাফিলতির জেরে নাম বিভ্রাটে পড়ে প্রথম ভোট থেকেই বঞ্চিত হতে হলো এই তরুণীকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গ্রাম।

গাফিলতির চরম নিদর্শন পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য সময়মতো সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র গাফিলতিতে নামের বানান বা তথ্যে বড়সড় বিভ্রাট দেখা দেয়। নির্বাচনের দিন বুথে গিয়ে তরুণী দেখেন, তালিকায় তাঁর নামই নেই অথবা ভুল তথ্যের কারণে তাঁকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে বুথের বাইরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী।

ক্ষোভে উত্তাল গ্রাম এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং সরকারি কর্মীদের চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রমাণ। ক্ষোভে ফেটে পড়া গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত বিএলও-র শাস্তির দাবি তুলে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের প্রশ্ন, “একজনের বছরের পর বছরের অপেক্ষা আর গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার এদের কে দিল?”

প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের দিন এমন বিভ্রাট কেন ঘটল, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও তরুণীর হারানো প্রথম ভোট ফিরিয়ে দেওয়া যে সম্ভব নয়, তা মানছেন সকলেই।