গঙ্গার ঢেউয়ে মোদীর ফটোশুট? যমুনার দূষণ মনে করিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কড়া খোঁচা জোড়াফুল শিবিরের!

২০২৬-এর নির্বাচনী পারদ যত চড়ছে, ততই শাণিত হচ্ছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ভাষা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গঙ্গার বক্ষে নৌকাবিহার এবং আরতি দর্শনের ছবি ভাইরাল হতেই আসরে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীর এই ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লির যমুনা নদীর বেহাল দশা তুলে ধরে তীব্র কটাক্ষ করল শাসক দল।

যমুনা বনাম গঙ্গা: তৃণমূলের মূল অস্ত্র

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর গঙ্গা ভক্তিকে ‘প্রচারসর্বস্ব’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যখন বারাণসী বা কলকাতায় গঙ্গার ঘাটে ছবি তোলেন, তখন তিনি দিল্লির যমুনা নদীর কথা ভুলে যান। তৃণমূলের অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে করা এক মন্তব্যে বলা হয়েছে:

“প্রধানমন্ত্রী মোদী গঙ্গায় নৌকাবিহার করে সুন্দর ছবি তুলতে পারেন, কিন্তু উনি যমুনায় গিয়ে এমনটা করতে পারবেন না। কারণ যমুনার সাদা বিষাক্ত ফেনা আর দূষণ ওঁর ক্যামেরার লেন্স নষ্ট করে দেবে। দিল্লির দূষণ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গঙ্গার ঘাটে ফটোশুট করাটা আসলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।”

বিজেপির পাল্টা জবাব

তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপি শিবিরও। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, গঙ্গা পরিষ্কারের জন্য কেন্দ্র সরকার যে ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্প নিয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। অন্যদিকে, দিল্লির যমুনার দূষণের দায় তাঁরা চাপিয়েছেন আম আদমি পার্টি (AAP) এবং ইন্ডিয়া জোটের ব্যর্থতার ওপর। তাঁদের পাল্টা প্রশ্ন, “গঙ্গার ঘাট পুনর্গঠনে তৃণমূলের অবদান কতটুকু?”

ভোটের বাজারে গঙ্গা-রাজনীতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গার ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আসলে ধর্মীয় আবেগকে ছুঁয়ে ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করার কৌশল। আর তৃণমূল ঠিক সেই জায়গাতেই আঘাত করে মোদীর ‘উন্নয়ন’ মডেলকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে চাইছে।