বাংলার জয়জয়কার সুপ্রিম কোর্টে! ৯২ শতাংশ ভোটদান আর হিংসামুক্ত নির্বাচন নিয়ে মুগ্ধ প্রধান বিচারপতি

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটদান ইতিহাস তৈরি করেছে। বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি বাদ দিলে, প্রাণহানিহীন এবং রেকর্ড ৯২ শতাংশ ভোটদান নিয়ে এবার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার বাংলার এসআইআর (SIR) মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ রাজ্যের এই বিপুল জনঅংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

“হিংসামুক্ত ভোটই সবথেকে বড় জয়”
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন যে, এবারের নির্বাচনের সবথেকে বড় প্রাপ্তি হলো এটি কার্যত হিংসামুক্ত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি।” সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও এই সুরেই বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনী সত্যিই প্রশংসনীয় কাজ করেছে। ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া মোটের ওপর নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ।”

ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নির্দেশ ও কল্যাণের ‘আশঙ্কা’
রাজ্য সরকারের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ট্রাইব্যুনালের ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ১৩৬ জনের নাম নিষ্পতি হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি তাঁকে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন।

তবে বিতর্কের সৃষ্টি হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যে। তিনি দাবি করেন, “ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে— এই আশঙ্কা থেকেই হয়তো মানুষ দলে দলে ভোট দিতে এসেছেন।” কল্যাণের এই ‘ভীতি’ তত্ত্বের পাল্টা কড়া জবাব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, “কেন মানুষ ভোট দিয়েছেন, তার অহেতুক ব্যাখ্যা না করাই ভালো।”

পরিযায়ী শ্রমিকদের ভূমিকা
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান যে, শুধুমাত্র সাধারণ নাগরিক নন, ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকও এবার ভোট দেওয়ার জন্য রাজ্যে ফিরে এসেছেন। যা প্রমাণ করে বাংলার মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের বিষয়ে কতটা সচেতন।

সব মিলিয়ে, রাজায় রাজায় যুদ্ধে যেখানে সাধারণ মানুষের (উলু খাগড়া) প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ বাংলার ভাবমূর্তিকে শীর্ষ আদালতে উজ্জ্বল করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।