ঘরে ঘরে অসুস্থ মহিলারা, তবুও কেন হাসপাতালে ব্রাত্য? চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল সরকারি সমীক্ষা!

ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক গভীর ও উদ্বেগজনক লিঙ্গ বৈষম্যের চিত্র ধরা পড়ল জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (এনএসএস)-এর ৮০তম স্বাস্থ্য সমীক্ষায়। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি অসুস্থ হলেও, হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার খরচের ক্ষেত্রে তাঁরা আজও অনেক পিছিয়ে। অর্থাৎ, অসুখ বিসুখে পরিবারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নারীরা ব্রাত্যই থেকে যাচ্ছেন।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
এনএসএস-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ ভারতে একজন মহিলার হাসপাতালে ভর্তির গড় খরচ যেখানে ২৫,১১১ টাকা, সেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই অঙ্কটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬,৯৯৭ টাকায়। অর্থাৎ, নারীদের চিকিৎসায় পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম অর্থ ব্যয় করা হয়।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে:
প্রায় ১৫ শতাংশ মহিলা জানিয়েছেন তাঁরা সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অসুস্থতার হার ছিল ১২ শতাংশ।
অসুস্থতা বেশি হওয়া সত্ত্বেও মহিলারা হাসপাতালে কম ভর্তি হতে পারছেন এবং চিকিৎসায় বরাদ্দ মিলছে সামান্যই।
টাকার অভাব না কি মানসিকতার?
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বৈষম্য শুধুমাত্র অভাবী বা দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধনী ও সচ্ছল পরিবারগুলোতেও দেখা গেছে পুরুষদের চিকিৎসার পেছনেই বেশি অর্থ ঢালা হয়। হাসপাতালের ইনডোর পেশেন্ট হিসেবে ভর্তির হারও নারীদের চেয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ বেশি। এর থেকে স্পষ্ট যে, বিষয়টি কেবল সম্পদের অভাব নয়, বরং পরিবারগুলোতে গুরুত্ব বা অগ্রাধিকারের অভাব।
বেসরকারি হাসপাতালেও একই ছবি
সরকারি প্রকল্পের পরিধি বাড়লেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বৈষম্যের ক্ষত আরও গভীর। সেখানেও পুরুষদের তুলনায় নারীদের চিকিৎসায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম অর্থ খরচ করা হচ্ছে। এমনকি সচ্ছল পরিবারগুলোও নারীদের দীর্ঘ সময় হাসপাতালে রাখতে বা দামী চিকিৎসার অধীনে আনতে দ্বিধা বোধ করছে।
বাড়ছে ঝুঁকি: ক্যান্সারের থাবা ও নীরব অবহেলা
বর্তমানে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের পাশাপাশি পিসিওএস (PCOS) এবং পিসিওডি (PCOD)-র মতো জটিল সমস্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরণের রোগের জন্য সময়োপযোগী ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও, প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে ঝুঁকি বাড়ছে।
সম্পাদকের মত: সরকারের বিমা প্রকল্প এবং সচেতনতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও এই লিঙ্গ বৈষম্য প্রমাণ করে যে, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অধরাই থেকে যাবে। কেবল সচ্ছলতা নয়, সুস্থ সমাজ গড়তে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির বদল।