‘স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি…,’ মাঝগঙ্গায় নিয়ে গিয়ে মোদীকে কী কী দেখালেন মাঝি গৌরাঙ্গ?

বৃহস্পতিবার ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে রেকর্ড ভোটদানের পর শুক্রবার সকালে একদম অন্য মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের ব্যস্ততা বা রাজনীতির কূটকচালি দূরে সরিয়ে ভোরের কলকাতায় তিনি মাতলেন গঙ্গাবিহারে। আর সেই সফরের সাক্ষী হয়ে বিস্ময়ের ঘোর কাটাতে পারছেন না নৌকার মালিক মহম্মদ ইফতেকার আহমেদ এবং মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।

জানতেনই না ভিভিআইপি সওয়ারির কথা!

নৌকার মালিক ইফতেকার আহমেদ জানান, সকালে এক যুবক এসে ৭টি বোট ভাড়া করতে চান। ইফতেকার ভেবেছিলেন হয়তো কোনো সেলিব্রিটি আসছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারেন, স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর নৌকায় চড়তে আসছেন। রেললাইন দিয়ে হেঁটে পানিঘাটের দিকে মর্নিং ওয়াক সেরে সোজা ঘাটে চলে আসেন মোদী।

মাঝির অভিজ্ঞতা: “সব যেন স্বপ্ন!”

মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের কাছে দিনটি ছিল স্বপ্নের মতো। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন। তারপর ইশারায় মাঝ গঙ্গায় নিয়ে যেতে বললেন। আমি ওঁকে ঘোরালাম, উনি ছবিও তুললেন। আমি খুব খুশি!” সচরাচর সেলিব্রিটিদের নৌকায় চড়িয়ে অভ্যস্ত হলেও, প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ব্যবহারে মুগ্ধ গৌরাঙ্গ।

একজোট থাকার বার্তা

নৌকা ভ্রমণ শেষে প্রধানমন্ত্রী হাওড়া ব্রিজ এবং বিদ্যাসাগর সেতুর ছবি তোলেন। নামার সময় নৌকার মালিক ও কর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন তিনি। ইফতেকারের কথায়, প্রধানমন্ত্রী নেমে তাঁদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দেন। মোদী বলেন, “তোমরা সকলে একজোট হয়ে থেকো, ভালো থেকো।” বিহারের বাসিন্দা ইফতেকার প্রধানমন্ত্রীর এই বিনম্রতায় অভিভূত।

কলকাতায় মোদী-ম্যাজিক

বৃহস্পতিবার রাতে রাজভবনে কাটানোর পর শুক্রবার সকালেই গঙ্গাবক্ষে এই ঝটিকা সফর সারলেন প্রধানমন্ত্রী। গঙ্গাপাড়ের সাধারণ মানুষ এবং প্রাতঃভ্রমণকারীদের সাথেও হাত মেলান তিনি। প্রথম দফার নজিরবিহীন ভোটদান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন, তাঁর এই সফরই তার প্রমাণ।