“রমুজ প্রণালীর আগুন কি ছড়াবে ভারতের বাজারেও? বার্লিন থেকে দেশের সুরক্ষায় কড়া বার্তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর”

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে রমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা যে ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ, তা স্পষ্ট করে দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। জার্মানি সফরের প্রথম দিনে সে দেশের সংসদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই বৈশ্বিক সংকটের সরাসরি প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করেন।

কেন চিন্তিত ভারত? রাজনাথের বক্তব্যের মূল পয়েন্ট:

  • সমুদ্রপথের নিরাপত্তা (Maritime Security): রমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের জাহাজ চলাচলের পথ। রাজনাথ সিং জানান, এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন সরাসরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

  • বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের সংঘর্ষগুলো কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে নেই। ভারতের মতো বড় অর্থনীতির দেশের ওপর এর মুদ্রাস্ফীতিজনিত প্রভাব পড়ছে।

  • জার্মানির সঙ্গে কৌশলগত জোট: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জার্মানিকে আহ্বান জানান যাতে দুই দেশ মিলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করে।

রমুজ প্রণালীর গুরুত্ব: উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই রমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনার জেরে মাঝেমধ্যেই এই পথ অবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ভারত যেহেতু তার জ্বালানি তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়েই আমদানি করে, তাই এই অঞ্চলের অস্থিরতা মানেই ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা।

কৌশলগত বার্তা: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জার্মানির মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনাথ সিংয়ের এই বক্তব্য আসলে বিশ্বশক্তিগুলোকে একটি বার্তা— ভারত এখন আর কেবল আঞ্চলিক শক্তি নয়, বৈশ্বিক যেকোনো অস্থিরতায় ভারতের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। তাই সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াত সুনিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ: “পৃথিবীর এক প্রান্তের অস্থিরতা আজ অন্য প্রান্তের সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলছে। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভারত তথা বিশ্ব অর্থনীতি বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।”